খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম
ফরিদপুরের সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে ২৭ সপ্তাহের অধিক সময়ের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া মূল অভিযুক্ত মো. ওয়াহিদ শেখ (৫৪) নামের এক দর্জিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটি ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সে সরকারি ওই কেয়ার সেন্টার থেকেই নিজের পড়াশোনা চালিয়ে আসছিল। মামলা এবং তদন্তের বিবরণ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বিকেলে টেপাখোলা এলাকার দর্জি মো. ওয়াহিদ শেখ ওই শিশুকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখ পরবর্তীতে শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। দীর্ঘ সময় বিষয়টি গোপন থাকার পর গত ৬ জুলাই মেয়েটির শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে তার শারীরিক পরীক্ষা করা হলে চিকিৎসকরা জানান যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীটি ২৭ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অন্তঃস্বত্তা।
ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর গত ৬ জুলাই ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও শিশু নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ওয়াহিদ শেখ ফরিদপুর সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জানান, মামলা দায়েরের পর পরই অভিযুক্ত ওয়াহিদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, সরকারি কেয়ার সেন্টারের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটা এবং তা দীর্ঘদিন প্রকাশ না পাওয়ায় কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। এর প্রেক্ষিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, দায়িত্বে অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত ৮ জুলাই প্রতিষ্ঠানের পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— সরকারি শিশু পরিবারের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক শামসুন্নাহার আক্তার, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক তানিয়া তাজরীণ, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার এবং কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান এই বিষয়ে জানান, দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও চরম ব্যর্থতার কারণে এই পাঁচজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি ‘স্ট্যান্ড-রিলিজ’ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে সমাজসেবা বিভাগের একটি ‘সেফ হোমে’ (নিরাপদ আবাসে) রাখা হয়েছে।
মন্তব্য