খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ৭:৪৭ এএম
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর অঝোর ধারার বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। মাত্র ছয় ঘণ্টার ভারী বর্ষণে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত তলিয়ে গেছে পানিতে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। জলাবদ্ধতার কারণে কোথাও কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাময়িক পরীক্ষাও স্থগিত করতে হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত এই ছয় ঘণ্টায় রাজধানীতে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মাসে স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড। এছাড়া শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৯৭ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদদের মতে, সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়া, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এবং বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে দেশজুড়ে এই বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলোতে গণপরিবহনের সংকট দেখা দেয়। যেসব যানবাহন চলাচল করছিল, সেগুলোর গতি ছিল ধীর। মিরপুরের কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আড়ং মোড়, বিজয় সরণি, গ্রিন রোড ও কাকরাইলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা যায় হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। অনেক জায়গায় রিকশার চাকা পার হয়ে সিট পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় চালক ও যাত্রী উভয়কেই চরম বেগ পেতে হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে থাকায় যানজটের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন জীবিকার তাগিদে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষ। কাকরাইল ও বিজয় সরণি এলাকায় দেখা গেছে, বাস থেকে নেমে নোংরা ও ময়লা পানির মধ্যেই সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে পা বাড়াতে হচ্ছে। ছাতা মাথায় দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি অনেকের, বৃষ্টির ছাঁট আর রাস্তায় জমে থাকা গাড়ির ছিটানো পানিতে ভিজে একাকার হতে হয়েছে পথচারীদের।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর তীব্র সক্রিয়তার কারণে আজ ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগে অপেক্ষাকৃত বেশি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে আগামীকাল সোমবার থেকে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানী ছাড়াও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে এই বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে বলে আবহাওয়া অফিস নিশ্চিত করেছে। তবে ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নাগরিক জীবনকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
মন্তব্য