খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ৩:৬ পিএম
বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে আসলে কী ঘটেছিল? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্র ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন ও কৌতূহল। ফাইনালের মতো হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে যেখানে দলের সবাইকে শতভাগ মনোযোগ দিতে বলা হয়, সেখানে অধিনায়ক লিওনেল মেসি কেন উল্টো সতীর্থদের ‘সবকিছু ভুলে যাওয়ার’ পরামর্শ দিলেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে ক্রীড়াঙ্গনে।
আর্জেন্টাইন ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে ড্রেসিংরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে কথা বলছেন মেসি। তিনি বলেন, “সবাই শান্ত হও। আসল বিষয় হলো আমাদের নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে শান্ত থাকতে হবে।” এ পর্যন্ত অধিনায়কের বক্তব্য স্বাভাবিক মনে হলেও এর পরদিনই সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলে তাঁর পরের বাক্যটি। সতীর্থ এনজো ফার্নান্দেজ ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজদের পানে চেয়ে মেসি জোর দিয়ে বলেন, “এসো সবকিছু ভুলে যাই। আমরা শুধু মাঠে নেমে ফুটবলটা খেলি। চলো স্রেফ খেলায় মন দিই।”
৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ঠিক কী ভুলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও ফাইনালের আগে ঘটে যাওয়া কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ককে এর পেছনের কারণ মনে করা হচ্ছে। টুর্নামেন্ট জুড়েই রেফারির কাছ থেকে আর্জেন্টিনা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে বলে সরব ছিল প্রতিপক্ষ দলগুলো। ফাইনালে নামার আগে সেই সুর আরও উসকে দেন স্পেনের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার এমেরিক লাপোর্ত। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
লাপোর্ত অভিযোগ করে বলেন, “সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় রেফারিংয়ের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত দেখে আমি সত্যিই তাজ্জব বনে গেছি। আর্জেন্টিনা দল বারবার রেফারির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে এবং প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে, কিন্তু তাদের কোনো শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। এত বড় একটি টুর্নামেন্টে এভাবে কাউকে সুবিধা দেওয়া একেবারেই অনুচিত, কারণ এতে করে প্রতিপক্ষ দলের মনোযোগ ভেঙে যায় ও হতাশা বাড়ে।”
প্রতিপক্ষের এই তীক্ষ্ণ মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ যাতে তরুণ ফুটবলারদের মাথায় গেঁথে না যায় এবং মাঠের বাইরের এই বিতর্ক যাতে খেলোয়াড়দের মনোযোগ নষ্ট না করে, সে জন্যই হয়তো মেসি সতীর্থদের মাঠের বাইরের সবকিছু ভুলে শুধু খেলায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তবে শেষ পর্যন্ত নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই রোমাঞ্চকর ফাইনালে ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্পেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ মুকুট মাথায় পরে স্প্যানিশরা। যদিও ৯০ মিনিটের খেলায় রেফারিং নিয়ে নতুন কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হয়নি, কিন্তু নাটকের শেষ এখানেই ছিল না। শেষ বাঁশি বাজার পরপরই মাঠে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফিফা ইতিপূর্বে সেই অপ্রীতিশীল ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
মন্তব্য