রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের আরিফপুর গ্রামে নিজ ঘরের একই বিছানা থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত দম্পতি হলেন আরিফপুর গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিনের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৪৫) এবং তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম (৩৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে মনিরুল ইসলাম ও স্বপ্না বেগমের কোনো সাড়া-শব্দ পাচ্ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তারা দম্পতির কক্ষের দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। পরে দরজা ভেতর থেকে আটকানো অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন পাশের ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে একই বিছানায় মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের এমন অবস্থায় দেখে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বাঘা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহের মুখে বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে। এসব কারণে বিষপানে তাদের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কেবল ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামতের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেরাজুল হক বলেন, দম্পতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে এবং মরদেহের মুখে বিষের গন্ধও পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতও পরীক্ষা করে দেখা হবে। একই সঙ্গে দম্পতির পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক কোনো বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
মন্তব্য