খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
আমেরিকান র্যাপ ও প্রযোজনা জগতের তারকা কেনিয়ে ওয়েস্ট তাঁর বহু প্রতীক্ষিত দ্বাদশ স্টুডিও অ্যালবাম “বুল্লি” থেকে নতুন একক গান “অল দ্য লাভ” প্রকাশ করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন। গত শুক্রবার প্রকাশিত এই গানটিতে তিনি ব্যবহার করেছেন লেবাননের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফাইরুজের ১৯৬৩ সালের ক্লাসিক গান “ফাইয়েক আলাইয়া” এর অংশবিশেষ, যা আরব বিশ্বের সংগীত ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রত্ন হিসেবে বিবেচিত।
গানটি প্রযোজনা করেছেন কেনিয়ে ওয়েস্টের দীর্ঘদিনের সহযোগী এবং টকবক্সের পথিকৃৎ আন্দ্রে ট্রাউটম্যান। তারা মিলে ফাইরুজের কণ্ঠের অংশকে একটি বিকৃত অথচ গসপেল-অনুপ্রাণিত সাউন্ডস্কেপে রূপান্তর করেছেন, যা সংগীত সমালোচকদের মতে অ্যালবামের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক সংগীত সাময়িকী বিলবোর্ড এই গানটিকে অ্যালবামের “সেরা অংশ” হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে যে কেনিয়ে এখনো এমন সৃজনশীলতা দেখাতে সক্ষম যা তার সমসাময়িকদের মধ্যে বিরল।
ফাইরুজের ব্যবহৃত গান “ফাইয়েক আলাইয়া” রচিত হয়েছিল রহমানি ব্রাদার্স—আসসি রহমানি এবং মানসুর রহমানি—দ্বারা। এটি মূলত শৈশবের স্মৃতি, বন্ধুত্ব এবং নস্টালজিয়ার গল্প বলে, যার শিরোনামের অর্থ দাঁড়ায় “তুমি আমার জন্য জেগে আছো”। এই গানটি “এল লেইল ওয়াল কান্দিল” নামের একটি বিখ্যাত মিউজিক্যাল নাটকের অংশ, যা ফাইরুজের কণ্ঠে আরব বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।
অ্যালবাম “বুল্লি” প্রকাশের যাত্রা ছিল বেশ বিশৃঙ্খল ও অনিশ্চিত। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এটি একাধিকবার বিলম্বিত হয় এবং বিভিন্ন পরীক্ষামূলক সংস্করণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম “এক্স”-এ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি কেনিয়ে তাঁর ছেলে সেন্টকে নিয়ে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও প্রকাশ করেছিলেন। অবশেষে বহু প্রতীক্ষার পর অ্যালবামটি প্রকাশ পায়। এটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তিনি অতীতে দেওয়া ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের জন্য একটি পূর্ণ পৃষ্ঠার ক্ষমাপ্রার্থনা বিজ্ঞাপন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশ করেন।
ফাইরুজ, যার জন্ম নাম নূহাদ হাদ্দাদ, জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালে বৈরুতে। তিনি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তাঁর কণ্ঠকে অনেকেই স্মৃতি, জাতীয় পরিচয় এবং সমষ্টিগত অনুভূতির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন।
ফাইরুজের সংগীত বহু আন্তর্জাতিক শিল্পীর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর তাঁর ফিলিস্তিনপন্থী গান “হিন্ডস হল”-এর শুরুতে ফাইরুজের “আনা লা হাবিবি” ব্যবহার করেন। আবার র্যাপার ড্রেক তাঁর ২০২৫ সালের অ্যালবামে “ওয়াহদুন” গানটি স্যাম্পল করেন, যা বিচ্ছেদের বেদনার গল্প বলে।
নিচে ফাইরুজের সংগীত ব্যবহারের কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণ দেওয়া হলো:
| শিল্পী | গান | ব্যবহার করা ফাইরুজের গান | বছর |
|---|---|---|---|
| কেনিয়ে ওয়েস্ট | অল দ্য লাভ | ফাইয়েক আলাইয়া | ২০২৬ |
| ম্যাকলমোর | হিন্ডস হল | আনা লা হাবিবি | ২০২৪ |
| ড্রেক | আইসম্যান | ওয়াহদুন | ২০২৫ |
| ম্যাডোনা | এরোটিকা | ইয়েল ইয়োম ওলিকা | ১৯৯২ |
ফাইরুজের সংগীত আজও বিভিন্ন প্রজন্ম ও সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে চলেছে। কেনিয়ে ওয়েস্টের নতুন গান সেই ঐতিহ্যেরই আরেকটি আধুনিক পুনর্ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা পূর্ব ও পশ্চিমের সংগীত সংলাপকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।