খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
ফেনী জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) কর্তৃক জব্দকৃত এই চোরাচালানি পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোররাতে জেলার ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলা সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল এই তৎপরতা চালায়।
ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ভারত থেকে অবৈধ পণ্যের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে—এমন একটি গোপন ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পায় বিজিবি। এই তথ্যের ভিত্তিতে ৪ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল বৃহস্পতিবার শেষ রাতে ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী সীমান্তের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেয়।
ভোররাতের দিকে চোরাকারবারিরা ভারতীয় শাড়ির বড় বড় বস্তা মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এই সময় সীমান্তে ওঁৎ পেতে থাকা বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তাদের সাথে থাকা মালামাল ও প্লাস্টিকের বস্তাগুলো ঘটনাস্থলেই ফেলে অন্ধকারে জঙ্গল ও সীমান্তের ওপারে পালিয়ে যায়। বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করতে সক্ষম হন। তবে ধাওয়া করেও এই ঘটনায় জড়িত কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বিল্লাল হোসেন এই সফল সীমান্ত অভিযানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, জব্দকৃত শাড়ির চালানটির সুনির্দিষ্ট হিসাব ও তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত এই চোরাচালানের মালামাল পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় কাস্টমস অফিসে হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বিল্লাল হোসেন আরও উল্লেখ করেন:
সীমান্ত সুরক্ষা: দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত রেখায় কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিজিবি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
অনুপ্রবেশ রোধ: যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পুশ-ইন (Push-in) করার প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে।
চোরাচালান প্রতিরোধ: মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্যের বিস্তার রোধে বিজিবির ইন্টেলিজেন্স বা গোয়েন্দা নজরদারি এবং আভিযানিক কার্যক্রম পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে।
ফেনী সীমান্তে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যান নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| অভিযানের মূল বিবরণী | বিজিবি আভিযানিক তথ্য ও ফ্যাক্টস |
| অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা | বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) |
| অভিযানের তারিখ ও সময় | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন; ভোররাত |
| অভিযানিক এলাকা (ফেনী জেলা) | ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী সীমান্ত এলাকা |
| অভিযানের ধরণ | গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ টহল দলের অভিযান |
| জব্দকৃত চোরাচালানি পণ্য | বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি |
| জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য | ৪১,২০,০০০ টাকা (একচল্লিশ লাখ বিশ হাজার টাকা) |
| আটককৃত ব্যক্তির সংখ্যা | শূন্য (চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়) |
| পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ | জব্দকৃত মালামাল স্থানীয় কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান |
সীমান্তবর্তী এই দুই এলাকায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে চোরাচালানের এই বড় চালানটি অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবেশ করার পূর্বেই জব্দ করা সম্ভব হয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানানো হয়েছে।