খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৫ দিনে দেশে সর্বমোট আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার রাতে ঘটেছে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ও মাঝারি মাত্রার এই ঘনঘন কম্পন দেশের ভূ-প্রকৃতির জন্য সতর্কতার ইঙ্গিত বহন করে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চল এবং দেশের ভেতরে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের সংখ্যা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূতাত্ত্বিক হিসেবে এটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বসতর্কতার সংকেত হতে পারে।
ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পগুলোর তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ ও সময় (স্থানীয়) | উৎপত্তিস্থল | রিখটার স্কেল | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১ ফেব্রুয়ারি | সিলেট (পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব) | ৩ | ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় মৃদু কম্পন |
| ৩ ফেব্রুয়ারি (রাত) | মিয়ানমার | ৫.৯ | শক্তিশালী কম্পন, বাংলাদেশে অনুভূত |
| ৩ ফেব্রুয়ারি (রাত) | মিয়ানমার | ৫.২ | পরবর্তী কম্পন |
| ৪ ফেব্রুয়ারি, ভোর ৪:৩৬:৪৬ | সাতক্ষীরা, কলারোয়া | ৪.১ | দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কম্পন |
| ৯ ফেব্রুয়ারি, ভোর | সিলেট, গোয়াইনঘাট | ৩.৩ | স্থানীয় কম্পন |
| ১০ ফেব্রুয়ারি, বিকাল | সিলেট, গোয়াইনঘাট | ৪ | স্থানীয় কম্পন |
| ১৯ ফেব্রুয়ারি, দুপুর ১২:৪৬ | সুনামগঞ্জ, ছাতক | ৪.১ | সিলেট অঞ্চলে কম্পন |
| ২৫ ফেব্রুয়ারি, রাত ১০:৫১:৪৯ | মিয়ানমার, সাগাইং | ৫.১ | ঢাকায় হালকা কম্পন, ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই |
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চল। ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্যে জানা গেছে, কম্পনের কেন্দ্র ছিল ২৩.০৩১ অক্ষাংশ ও ৯৪.৭৪৪ দ্রাঘিমাংশে এবং গভীরতা প্রায় ১০১ কিলোমিটার। মোনইয়া শহর থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এবং মাওলাইকের থেকে প্রায় ৭৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এটি ঘটেছে। গভীরতার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঢাকায় কয়েক সেকেন্ডের হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ নভেম্বর দেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছিল। রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৫.৭। ঢাকাসহ সারাদেশে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হন, ছয় শতাধিক আহত হন এবং অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ঘনঘন কম্পনের প্রবণতা বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সিসমিক সচেতনতা ও জরুরি প্রস্তুতির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।