খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫
টাকা ছাপিয়ে আবারও ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল) ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে আরও আড়াই হাজার কোটি টাকা।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে এ নিয়ে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ২৯ হাজার ৪১০ কোটি টাকা ছাপিয়ে দেওয়া হলো। যদিও ড. আহসান এইচ মনসুর গভর্নরের দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন, টাকা ছাপিয়ে আর কোনো ব্যাংককে ধার দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় মদদে এস আলমসহ কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এ কারণে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই ব্যাংকগুলো। কয়েকটি ব্যাংকের বাজে অবস্থার প্রভাব পুরো খাতে পড়তে পারে– এমন আশঙ্কায় গত নভেম্বরে ছয়টি ব্যাংককে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে জানুয়ারিতে আরও ৪ হাজার ৯১০ কোটি টাকা দেয়।
জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে দেড় হাজার এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে দিয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। গত নভেম্বরসহ এসআইবিএল সাড়ে ৫ হাজার এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পেল সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া এক্সিম ব্যাংক সাড়ে ৮ হাজার, ন্যাশনাল ব্যাংক ৫ হাজার, ইউনিয়ন ব্যাংক ২ হাজার ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ২ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে। এবি ব্যাংক ২০০, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ২০০ ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে ১০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট চলছে। আস্থা বাড়ানোর জন্য আমানতকারীকে বোঝাতে হবে, যে কোনো অঙ্কের টাকা ব্যাংক ফেরত দিতে সক্ষম। এ কারণেই টাকা ছাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন উপায়ে যে পরিমাণ টাকা উঠে আসছে, বাজারে তার কম দেওয়া হচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ধারের প্রভাব তেমন নেই মূল্যস্ফীতিতে।
খবরওয়ালা/এমএজেড