খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
খাগড়াছড়ির মারমা শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো চিহ্ন বা আলামত মেলেনি। ওই কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত যাচাইয়ের দশটি সূচকের প্রত্যেকটিতেই ‘স্বাভাবিক’ অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জয়া চাকমা, ডা. মীর মোশাররফ হোসেন ও ডা. নাহিদ আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত একটি চিকিৎসক দল এই পরীক্ষা সম্পন্ন করে।
চিকিৎসক দলটির প্রধান, খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. জয়া চাকমা বলেন, ওই ছাত্রীর চিকিৎসাজনিত পরীক্ষার ফলাফলে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমরা সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল নিশ্চিত করেছেন, প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হাতে পাওয়া গেছে। এতে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
তিনি ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে সৃষ্ট সহিংসতাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, পরিকল্পিত এই সহিংসতায় তিনটি জীবন ঝরে গেল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
খাগড়াছড়িতে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগকে ঘিরে সাত দিন ধরে অবরোধ চলার পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত রবিবার গুইমারায় সহিংসতায় তিনজন পাহাড়ি যুবক নিহত হন। অন্যদিকে, এই ঘটনায় তিন সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জন সেনা সদস্য এবং ওসিসহ তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালায় প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে অচেতন অবস্থায় একটি খেত থেকে উদ্ধার করে। পরে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শয়ন শীল (১৯) নামে এক যুবককে পুলিশ আটক করে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা একপর্যায়ে সহিংস রূপে নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং অতিরিক্ত সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এরপরও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা অবস্থাতেই জেলার গুইমারায় তিনজনের প্রাণহানি ঘটে।
এদিকে, রবিবার গুইমারায় ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনা তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে গুইমারায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন