খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
নেদারল্যান্ডস ও জাপানের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচটি চরম নাটকীয়তা ও রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের মুখ দেখতে না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দলই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসার সাজিয়ে বসে। পুরো ম্যাচে নেদারল্যান্ডস দুই দুইবার লিড নিলেও জাপানের লড়াকু মানসিকতার কারণে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে জাপানের সমতাসূচক গোলের কারণে ২-২ ব্যবধানে খেলাটি ড্র হয় এবং দুই দলই মূল্যবান পয়েন্ট ভাগ করে নেয়।
খেলার প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও মাঠের লড়াইয়ে উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। দুই পক্ষই বেশ কিছু ভালো আক্রমণ তৈরি করে। বিশেষ করে ম্যাচের ৩৪ মিনিটে গোল করার একটি নিশ্চিত সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে ডাচ ফুটবলার ডনিয়েল মালেন একটি চমৎকার হেড করেন, যা সরাসরি গোলের দিকে যাচ্ছিল। তবে জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় সেই বলটি আটকে দেন। প্রথমার্ধে জাপানকে গোল হজম করা থেকে বাঁচিয়ে রাখার পেছনে সুজুকির এই সেভটি সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। ফলে প্রথমার্ধের খেলা শেষে ০-০ সমতা নিয়েই উভয় দল বিশ্রামে যায়।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: ৫১ থেকে ৬৪ মিনিট—এই মাত্র ১৩ মিনিটের ঝোড়ো গতিতে ম্যাচে তিনটি গোল হয়, যা স্টেডিয়ামের আবহাওয়া পুরোপুরি বদলে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই খেলার চিত্রনাট্য দ্রুত বদলাতে থাকে। ম্যাচের ৫১ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে সতীর্থের বাড়ানো একটি নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডের সাহায্যে গোল করেন ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। বলটি পোস্টে লেগে জালে জড়ালে উল্লাসে মেতে ওঠে নেদারল্যান্ডস। দেশের হয়ে বড় কোনো টুর্নামেন্টে এটিই ছিল ফন ডাইকের প্রথম গোল। তবে ডাচদের এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি জাপান। পিছিয়ে পড়ার ঠিক ছয় মিনিট পর, অর্থাৎ ৫৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে চমৎকার এক আক্রমণ শাণিয়ে জাপানকে সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা।
খেলা তখন সমতায় ফেরার পর আরও জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে নেদারল্যান্ডসের পক্ষে ক্রিসেনসিও সামারভিল গোল করে দলকে পুনরায় ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি জাপানি ফুটবলাররা। ম্যাচের শেষ ভাগে তারা ডাচ রক্ষণভাগের ওপর একের পর এক পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকে। অবশেষে ম্যাচের ৮৯ মিনিটে জাপানের দাইচি কামাদা গোল করে বল জালে জড়ালে ডাচদের জয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
| সময় (মিনিট) | সংশ্লিষ্ট দল | ফুটবলারের নাম | ঘটনার বিবরণ ও ফলাফল |
| ৩৪ মিনিট | নেদারল্যান্ডস | ডনিয়েল মালেন | চমৎকার হেড, জাপানি গোলরক্ষক কর্তৃক সেভ |
| ৫১ মিনিট | নেদারল্যান্ডস | ভার্জিল ফন ডাইক | হেডের সাহায্যে গোল (নেদারল্যান্ডস ১ – ০ জাপান) |
| ৫৭ মিনিট | জাপান | কেইতো নাকামুরা | ফিল্ড গোল (নেদারল্যান্ডস ১ – ১ জাপান) |
| ৬৪ মিনিট | নেদারল্যান্ডস | ক্রিসেনসিও সামারভিল | ফিল্ড গোল (নেদারল্যান্ডস ২ – ১ জাপান) |
| ৮৯ মিনিট | জাপান | দাইচি কামাদা | সমতাসূচক গোল (নেদারল্যান্ডস ২ – ২ জাপান) |
পুরো ম্যাচজুড়ে ফুটবলারদের এই ক্লান্তিহীন লড়াই এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা দর্শকদের একটি স্মরণীয় ম্যাচ উপহার দিয়েছে। নেদারল্যান্ডস জয়ের খুব কাছে গিয়ে পয়েন্ট হারালেও, জাপানের এই ঘুরে দাঁড়ানো ফুটবল বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে।