খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে পৌষ ১৪৩২ | ৭ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফেলানী খাতুন হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পার হলেও তাঁর পরিবার এখনও বিচার পাননি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের কতবার আদালতে গিয়েছি, বিচার পাইনি। নির্বাচনে যে সরকারই আসুক, আমি চাই ফেলানীর হত্যার বিচার আগে হোক। বিচার না দেখে আমি শান্তিতে মারা চাই না।”
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে ১৫ বছর বয়সী ফেলানী খাতুন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পাঁচ ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকা তাঁর মরদেহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম জানান, “আমাদের পরিবার তখন ভারতে কাজের সন্ধানে গিয়েছিল। দেশে মেয়ের বিয়ে ঠিক হওয়ায় আমরা দেশে ফিরছিলাম। সেই সময় সীমান্তে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।”
ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, “বিএসএফ আমার মেয়েকে হত্যা করে বুকটা খালি করে দিয়েছে। ১৪ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু আজও কোনো বিচার পাইনি। আমি এখনও আশায় আছি যে একদিন মেয়ের হত্যার সঠিক বিচার হবে।”
ফেলানীর হত্যার পর ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিয় ঘোষ বেকসুর খালাস পান। বিজিবির আপত্তিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনরায় বিচার শুরু হলে তিনি আবারও খালাস পান।
এরপর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই নুরুল ইসলাম ভারতের উচ্চ আদালতে ‘মাসুম’ মানবাধিকার সংগঠনের মাধ্যমে রিট আবেদন করেন। বহুবার শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও মামলাটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
ফেলানী খাতুন নুরুল ইসলাম ও জাহানারা বেগম দম্পতির আট সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া ফেলানী পরিবারের সঙ্গে ভারতে বসবাস করছিলেন। বিয়ের উদ্দেশ্যে দেশে ফেরার পথে সীমান্তে তাঁর প্রাণহানি ঘটে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত কিশোরীর নাম | ফেলানী খাতুন |
| জন্ম সাল | ১৯৯৬ |
| বয়স | ১৫ বছর |
| নিহতের তারিখ | ৭ জানুয়ারি ২০১১ |
| স্থান | ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ/ভারত সীমান্ত |
| অভিযুক্ত | অমিয় ঘোষ (ভারতীয় বিএসএফ সদস্য) |
| প্রথম বিচার | ১৩ আগস্ট ২০১৩, কোচবিহার, ভারতের বিএসএফ বিশেষ আদালত |
| খালাস | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ |
| উচ্চ আদালতে রিট আবেদন | ১৪ জুলাই ২০১৫, ভারতের উচ্চ আদালত |
| পরিবারের অবস্থান | বাবা-মা ও আট ভাই-বোন, ফেলানী সবার বড় |
ফেলানীর পরিবার দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছেন। এই দীর্ঘকালীন মামলা পরিবারে গভীর শোক এবং অনিশ্চয়তার ছাপ রেখেছে।