খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
বগুড়া ও ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দ্বিমুখী সিদ্ধান্তে নতুন এক নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে। ২০২৬ সালের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হলেও, ঠিক একই হলফনামা জমা দিয়ে বগুড়া-২ আসনে তিনি অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই তথ্য ও নথিপত্র এক জেলায় গ্রহণযোগ্য হলেও অন্য জেলায় কেন বাতিল হলো, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বগুড়া-২ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রার্থিতা বাতিলের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তাঁর মতে, মান্নার জমা দেওয়া হলফনামায় তথ্যের ব্যাপক অসংগতি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করা, সম্পদ বিবরণীর ফরম যথাযথভাবে দাখিল না করা এবং এফিডেভিট বা হলফনামা সম্পাদনের তারিখ ও স্বাক্ষরের তারিখে গরমিল থাকা। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মান্না যে এফিডেভিট জমা দিয়েছেন, সেটি সম্পাদনের এক দিন পর তিনি স্বাক্ষর করেছেন, যা আইনত ত্রুটিপূর্ণ।
বিপরীত দিকে, ঢাকা-১৮ আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধতা পাওয়ায় মান্না স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং বগুড়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “বগুড়ায় আমার প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি অন্যায়। নির্বাচন কমিশনের মূল কাজ হলো প্রার্থীদের সহায়তা করা, তাদের প্রার্থিতা বাদ দেওয়া নয়। আমি আইনি প্রক্রিয়ায় এটি মোকাবিলা করব।”
মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত তথ্যাবলি
| পর্যালোচনার বিষয় | বগুড়া-২ আসন | ঢাকা-১৮ আসন |
|---|---|---|
| মনোনয়নপত্রের অবস্থা | বাতিল (রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক) | বৈধ (রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক) |
| বাতিলের প্রধান কারণ | ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন ও সম্পদের অসংগতি | কোনো ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি |
| আইনি ত্রুটি | এফিডেভিট ও স্বাক্ষরের তারিখের গরমিল | গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত |
| রাজনৈতিক সমর্থন | বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের সমর্থনপুষ্ট | ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে প্রার্থী হওয়া |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | নির্বাচন কমিশনে আপিল করার ঘোষণা | প্রচারণা শুরুর প্রস্তুতি |
মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের একজন অন্যতম শীর্ষ নেতা। বগুড়া-২ আসনে বিএনপি তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিলেও ঢাকা-১৮ আসনে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা বিস্ময় তৈরি হয়েছে। এই আসনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে মান্না পরিষ্কার করেছেন যে, এটি তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তবে জোটের ভবিষ্যৎ এবং শরিকদের মধ্যে বোঝাপড়া নিয়ে তিনি কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় এই ধরনের কড়াকড়ি জোটের সংহতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে মাহমুদুর রহমান মান্না এবং তাঁর আইনি দল বগুড়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার নথিপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, একই হলফনামায় দুই জেলায় ভিন্ন ফলাফল আসায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বাছাই প্রক্রিয়ার অভিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আপিল বিভাগে মান্না তাঁর বগুড়ার আসনটি ফিরে পান কি না।