খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের নির্বাচনী পরিবেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের একটি ভোটকেন্দ্র থেকে জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করে গভীর রাতে কেন্দ্রে প্রবেশের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কেন্দ্র ও আশেপাশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বুধবার রাত ১০টার দিকে বগুড়া শহরের ভান্ডারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তির নাম নাসিরুল ইসলাম, যিনি বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল আকস্মিকভাবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে এলাকায় সন্দেহ তৈরি হয়।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এসময় দলটির অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও নাসিরুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| আটক ব্যক্তির নাম | নাসিরুল ইসলাম |
| রাজনৈতিক পরিচয় | সেক্রেটারি, ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত, বগুড়া পৌরসভা |
| ঘটনাস্থল | ভান্ডারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র, বগুড়া-৬ (সদর) |
| ঘটনার সময় | বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি; রাত ১০:০০ ঘটিকা |
| আটককারী কর্তৃপক্ষ | ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় পুলিশ |
| অভিযোগ | সরকারি অনুমতি ব্যতীত রাতে ভোটকেন্দ্রে অনাধিকার প্রবেশ |
| বর্তমান অবস্থা | আইনগত প্রক্রিয়া ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান |
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ চন্দ্র সরকার গণমাধ্যমকে জানান, রাতের বেলা ভোটকেন্দ্রে সাধারণ নাগরিক বা রাজনৈতিক কর্মীদের প্রবেশের কোনো আইনি সুযোগ নেই। আটক নাসিরুল ইসলাম দাবি করেছেন যে, তিনি পোলিং এজেন্টের তালিকা জমা দিতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে ম্যাজিস্ট্রেট এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, “নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী রাতে কেন্দ্রে কোনো তালিকা জমা দেওয়ার বিধান নেই। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কেন্দ্রে প্রবেশ সন্দেহজনক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আওতায় পড়ে।”
তিনি আরও জানান যে, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাথমিক মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই আটকের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বগুড়া শহর জামায়াতের যুব বিভাগের সম্পাদক আব্দুস সালাম তুহিন দাবি করেন, তাদের কর্মীরা কেবল প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সাথে সৌজন্যমূলক সাক্ষাত এবং পোলিং এজেন্টের তালিকা দিতে গিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি কৃত্রিম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বা ‘মব’ তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে তাদের নেতাকে আটক করিয়েছে।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গভীর রাতে একটি স্পর্শকাতর এলাকায় দলবল নিয়ে প্রবেশ করা সাধারণ ভোটারদের মনে ভীতির সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছে।