খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের অগ্রযাত্রায় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। এই উৎসবগুলো সামাজিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধকে উদ্দীপ্ত করে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে। এই প্রেক্ষাপটে, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব বড়দিন (২৫ ডিসেম্বর) উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলায় আয়োজন করা হয়েছে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানটি শিল্পকলা একাডেমি ও সংস্কৃতিমন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হবে। বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, সন্ধ্যা ৬টায় একাডেমির নন্দন মঞ্চে এটি অনুষ্ঠিত হবে। দর্শকরা একটি শান্তি, সামাজিক ঐক্য এবং মানবিকতার বার্তা বহনকারী অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন, যা উৎসবের প্রকৃত অর্থকে ফুটিয়ে তুলবে।
প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবে গান, ভক্তিমূলক কীর্তন ও বিভিন্ন সাংগীতিক পরিবেশনা। প্রধান শিল্পীদের মধ্যে আছেন তেজগাঁও চার্চের কোরোর সদস্যরা: ক্রিস্টোফার গোমেজ, দিলীপ মন্ডল, বিজয় গোমেজ, রেক্সোনা মন্ডল, জয়া গোমেজ, বিবা গোমেজ ও সুবাশ পেরিচ। এছাড়া জুলিয়েট সুশ্মিতা বারোয়ীর একক পরিবেশনা দর্শকদের মন জয় করবে।
আধুনিক সঙ্গীতের রঙ ছড়িয়ে দিতে “গেথসেমানি ওয়ারশিপ” এবং “এফ মাইনর” ব্যান্ডের লাইভ পারফরম্যান্স অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করবে। উল্লেখযোগ্য যে, অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত, যাতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারে।
বছরের পর বছর ধরে শিল্পকলা একাডেমি ও সংস্কৃতিমন্ত্রণালয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোকে সৃজনশীলতা, সহমর্মিতা এবং সামাজিক সংহতির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেছে। গত বছরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উৎসবের সারসংক্ষেপ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| উৎসবের নাম | তারিখ | স্থান | প্রধান আকর্ষণ |
|---|---|---|---|
| চন্দ্রত্র আনন্দ উৎসব (ঈদ উল-ফিতর) | ৩০ মার্চ ২০২৫ | নন্দন মঞ্চ | সাংস্কৃতিক মেলা, সঙ্গীত ও নৃত্য |
| বুদ্ধ পূর্ণিমা উৎসব | ১০ মে ২০২৫ | নন্দন মঞ্চ ও ৬ জেলা | কীর্তন, ধ্যান ও সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী |
| আনন্দ উৎসব (ঈদ উল-আযহা) | ৬ জুন ২০২৫ | নন্দন মঞ্চ | সঙ্গীত, নৃত্য ও শিশুদের কর্মশালা |
| শারদীয়া দুর্গা পূজা | ৩০ সেপ্টেম্বর – ১ অক্টোবর ২০২৫ | সুরুয়ার্দী উদ্যান ও নন্দন মঞ্চ | দুই দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঢোল ও নৃত্য |
প্রতিটি উৎসবের মাধ্যমে একাডেমি সৃজনশীলতা, ধর্মীয় সহনশীলতা ও জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখছে। আসন্ন বড়দিনের অনুষ্ঠানও দর্শক ও শিল্পীদের জন্য স্মরণীয় একটি সন্ধ্যা হয়ে থাকবে, যা আনন্দ, সাংস্কৃতিক প্রশংসা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সকলকে একত্রিত করবে।