খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে পৌষ ১৪৩২ | ১০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় তৌহিদ (২২) নামক এক যুবককে অত্যন্ত জঘন্যভাবে গলা কেটে হত্যা করার খবর পাওয়া গিয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্দরের ২৪নং ওয়ার্ডের আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। প্রকাশ্য জনপদের কাছে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও নিহতের পরিচয়
নিহত তৌহিদ বন্দরের ২৪নং ওয়ার্ডের আমিরাবাদ বক্তারকান্দি এলাকার বাসিন্দা মামুন মিয়ার সন্তান। তাঁর বাবা পেশায় একজন মিশুকচালক। অভাবের সংসারে তৌহিদ কেবল একজন সন্তানই ছিলেন না, বরং বাবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঝেমধ্যে মিশুক চালিয়ে পরিবারের আর্থিক যোগান দিতেন। শুক্রবার বিকেলে ঘর থেকে বের হওয়ার পর সন্ধ্যায় আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ডের অদূরে একটি পরিত্যক্ত নিচু জমিতে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘাতকরা অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
নিচে এই দুঃখজনক ঘটনার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা প্রদান করা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম ও বয়স | তৌহিদ (২২)। |
| পিতার নাম ও পেশা | মামুন মিয়া (মিশুকচালক)। |
| ঘটনার স্থান | আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পতিত জমি, ২৪নং ওয়ার্ড। |
| ঘটনার সময় | শুক্রবার সন্ধ্যা। |
| মরদেহের অবস্থা | ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটা। |
| বর্তমান অবস্থা | মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ। |
| তদন্তকারী কর্মকর্তা | ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন। |
পুলিশের পদক্ষেপ ও জনমনে আতঙ্ক
খবর পেয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া) মর্গে পাঠায়। ওসি সংবাদমাধ্যমকে জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও উদঘাটিত হয়নি। তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মোটিভ খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে।
পরিবারের আহাজারি ও স্থানীয়দের দাবি
একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে তৌহিদের বাবা মামুন মিয়া ও মা এখন বাকরুদ্ধ। পরিবারের সহযোগিতা করতে গিয়ে তৌহিদকে এভাবে প্রাণ দিতে হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ইদানীং ওই এলাকায় বখাটেদের আনাগোনা এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্জন স্থানগুলোতে মাদকের আড্ডা জমার কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে তৌহিদের খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।