বরিশালে পৃথক ঘটনায় এক দিনে পানিতে ডুবে ছয় শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলতে খেলতে পাশের পুকুরে পড়ে যায় আলিয়া (৪) ও আয়শা (৩) নামের দুই শিশু। পরে বিকেলে তাদের লাশ পাওয়া যায়। তারা উপজেলার চরহোগলা গ্রামের প্রবাসী পান্না সরদারের মেয়ে।
এদিন উজিরপুর উপজেলার পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা ঝন্টু হাওলাদারের ছেলে মো. তওহিদ (৬) ও শরিফ খানের ছেলে মো. শাফিন (৭) খেলার সময় পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। পরে দুপুর ২টার দিকে শাফিন খানের লাশ পুকুরে ভেসে উঠে। স্থানীয়রা পুকুরে সন্ধান করে ডুবন্ত অবস্থায় তাওহীদকে উদ্ধার করে। তাদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার ভোলার দৌলতখানে উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের মধ্য জয়নগর এলাকার সৈয়দউদ্দিন বাড়ির দুই শিশু পুকুরে ডুবে মারা গেছে। তারা হলো মধ্যজয়নগর গ্রামের নুরনবীর মেয়ে মুনতাহা (৫) ও একই বাড়ির মৃত জালালউদ্দিনের ছেলে জিসান (৬)। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাইবোন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুনতাহা তারা বাড়ির উঠানে খেলছিল। উঠানের পাশে পুকুর, মুনতাহা একপর্যায়ে পুকুরে পড়ে যায়। পরে মুনতাহাকে উঠাতে গিয়ে জিসানও পানিতে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাদের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ নিয়ে আঘাত ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, শিশু ও নারীর নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করা গবেষণা ও নীতি সংস্থা সিআইপিআরবি-এর বরিশালের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোহাম্মদ মোতাহের হোসাইন বলেন, ‘এই মৃত্যু রোধের জন্য পাঁচ বছরের শিশুদের সাঁতার শেখানো অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়ে পর্যাপ্ত ডে কেয়ার সেন্টার চালুর মাধ্যমে চার বছরের শিশুদের নিরাপত্তায় রেখে শিশু মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।’ তার মতে, স্থানীয় নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং সাঁতার শিক্ষা শিশুদের নিরাপদ রাখতে কার্যকর হাতিয়ার। এ ছাড়া পরিবার ও কমিউনিটির সচেতনতা বৃদ্ধিও অপরিহার্য।
খবরওয়ালা/এফএস



