খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
আজ ১৯ জুলাই ২০২৫, বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে (নিউ ইয়র্ক সময় অনুযায়ী ১৯ জুলাই, বাংলাদেশ সময় ২০ জুলাই ভোররাতে) বাংলাদেশ এক মহান সাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং চিন্তাবিদকে হারিয়েছিল।
হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন লেখক ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক নির্মাতা, এক স্বপ্নবাজ মানুষ, যিনি বাংলা সাহিত্যে এনে দিয়েছিলেন নতুন ভাষা, নতুন ধারার উপন্যাস, আবেগ ও জীবনবোধের অভিনব প্রকাশ। তাঁর লেখা ‘নন্দিত নরকে’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘অচিনপুর’, ‘মিসির আলী’, ‘হিমু’, ‘দেয়াল’ ইত্যাদি আজও পাঠকের হৃদয় জুড়ে আছে।
নাটক-চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন অগ্রগামী। ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’ থেকে শুরু করে ‘ঘেটুপুত্র কমলা’— প্রতিটি সৃষ্টি ছিল ভিন্নমাত্রার শিল্প।
হুমায়ূন আহমেদের লেখার বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর নির্মল ভাষা, গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও সাদামাটা জীবনের ভেতর থেকেও অসাধারণ কিছু তুলে আনার ক্ষমতা। ‘নন্দিত নরকে’ দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিনি পাঠকদের নিয়ে গেছেন অসংখ্য চরিত্রের ভেতর দিয়ে— হিমু, মিসির আলী, শুভ্র, বাকের ভাই— প্রত্যেকেই যেন বাস্তবতার হাত ধরে উঠে এসেছে তাঁর কল্পনার জগত থেকে।
তিনি কখনও কখনও পাঠককে হাসিয়েছেন, কখনও কাঁদিয়েছেন, আবার অনেক সময় চিন্তার অতল গহ্বরে ডুব দিয়েছেন। তাঁর উপন্যাসগুলো কেবল গল্প নয়, একেকটি সমাজচিত্র, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং জীবনবোধের বহুমাত্রিক অনুবাদ।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজন করা হয়েছে। নুহাশ পল্লীতে কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন স্বজন, ভক্ত ও পাঠকসমাজ। টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে চলছে তাঁর সৃষ্টির পুনর্প্রচার, আলোচনামূলক অনুষ্ঠান ও স্মরণসভা।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে হুমায়ূন আহমেদের অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়— কিন্তু তাঁর সৃষ্টি ও স্বপ্ন বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।
হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে— ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা।
খবরওয়ালা/এমএজেড