খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের অন্যতম সহযোগী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ৫ মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করায় ‘মব’ তৈরি করে পুলিশের কাছ থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১২ মার্চ) মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকার বি ব্লকের ৭ নম্বর রোডে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আসামির নাম গোলাম মোস্তফা। তার নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় ৫টি মামলা রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানা, রামপুরা থানা, বাড্ডা থানা, ক্যান্টনমেন্ট থানা ও চকবাজার থানায় মামলাগুলো দায়ের হয়। যার মধ্যে একটি হত্যা ও চারটি হত্যাচেষ্টা মামলা।
পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের গত ১৪ জানুয়ারি রাত ১০টায় ৫ মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের সহযোগী গোলাম মোস্তফা এবং হাফিজুর রহমান লিকুর অন্যতম ক্যাশিয়ার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলা ও হত্যার ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি আনিসুর রহমান সোহাগ মোহাম্মদপুর থানায় প্রবেশ করে ওসির সঙ্গে মিটিং করে। এরপর থেকে তারা মামলার আসামি হয়েও এলাকায় নিয়মিত ঘুরে বেড়ায়। আজকে এদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেও ওসির নির্দেশে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন অধস্তন কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ (বুধবার) সকাল ১১টার দিকে মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকার বি ব্লকের ৭ নম্বর রোডে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি টিম আসামি গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে যায়। তাকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পড়ানোর সময় আশপাশে থাকা ৮-১০ জন সিকিউরিটি গার্ড ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজন এসে পুলিশের ওপর হামলা করে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন।
পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া একজন সিকিউরিটি গার্ড জানান, এভোরোজ স্কুলের মালিক আমাদের স্যার গোলাম মোস্তফা স্কুল থেকে বের হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়িতে উঠছিল। এ সময় পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করে। ওই সময় তার এক হাতে হাতকড়াও লাগায় পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে আমরা যারা ছিলাম সবাই পুলিশকে ঘেরাও করে ধরে তাকে ভেতরে নিয়ে যায়। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে আমাদের লোকজনের ধাক্কাধাক্কি হয়।
এ সময় আরও দুই সিকিউরিটি গার্ড সঙ্গে ছিলেন। তারা জানান, আমাদের সামনে থেকে আমাদের স্যারকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে, এটা কীভাবে সম্ভব। গ্রেপ্তার করতে আসছে দেখে আমরা সবাই পুলিশকে বাধা দিয়েছি। তাদেরকে ওই সময় ওয়ারেন্ট দেখাতে বলেছি। তারা মোবাইলে কাগজ দেখায়। কোনো কাগজপত্র পুলিশ সঙ্গে আনেনি।
আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা জানতে চাইলে মোহাম্মদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখার হাসান বলেন, মব সৃষ্টি করে পুলিশকে বাধা দিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেয় স্থানীয় কিছু লোকজন।
এ ঘটনায় তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, বুধবার মোহাম্মদপুর থানার একটি টিম বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ৫ মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে লালমাটিয়া এলাকায় যায়। কিন্তু আওয়ামী লীগের দোসর তার দলবল সঙ্গে নিয়ে ছিলেন। আসামি গ্রেপ্তারের সময় ওই আসামির লোকজন মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর বাধা সৃষ্টি করে। গ্রেপ্তার করতেই দেয়নি পুলিশকে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। খুব শিগগির আসামিসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
খবরওয়ালা/আরডি