খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ বুধবার রাতে লাশটি উদ্ধার করেছে। নিহতের নাম মাহমুদা আক্তার ওরফে জেরিন (২৭)। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) এর শিক্ষার্থী ছিলেন।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমাউল হক জানিয়েছেন, মাহমুদা সি-ব্লকের একটি বাসার এককক্ষে ভাড়া থাকতেন। বুধবার সন্ধ্যায় পাশের কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা দীর্ঘসময় ধরে মাহমুদার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে তারা ভাটারা থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে এবং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মাহমুদার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।
পাশের কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, মাহমুদা কিছুদিন ধরেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, উপপরিদর্শক আবদুল ওয়াদুদ, জানিয়েছেন, “সহপাঠীদের বরাত দিয়ে বলা যায়, মাহমুদা হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। আত্মহত্যার কারণ হতাশা হতে পারে।”
মাহমুদার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলা। তাঁর বাবার নাম খোরশেদ আলী। তিনি পরিবারে একমাত্র সন্তান ছিলেন।
নিচের টেবিলে মাহমুদার তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তথ্যের ধরণ | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | মাহমুদা আক্তার (জেরিন) |
| বয়স | ২৭ বছর |
| বিশ্ববিদ্যালয় | আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB) |
| বাসার এলাকা | বসুন্ধরা আবাসিক, সি-ব্লক |
| গ্রামের ঠিকানা | সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী |
| পিতার নাম | খোরশেদ আলী |
| মৃত্যুর প্রাথমিক ধারণা | আত্মহত্যা (ময়নাতদন্ত প্রমাণিত নয়) |
| মামলা প্রকার | অপমৃত্যু |
| তদন্তকারী কর্মকর্তা | এসআই আবদুল ওয়াদুদ, ভাটারা থানা |
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি সহপাঠীদের মানসিক সহায়তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মাহমুদা শান্ত এবং মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। এই দুর্ঘটনা তাদের জন্য অত্যন্ত শোকের।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মাহমুদার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সঠিকভাবে জানা যাবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একক কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও পুনরায় জোর দেওয়া হচ্ছে।