খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট গায়িকা নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি সম্প্রতি বাংলাদেশে চলচ্চিত্র শিল্পে কর্মরত সঙ্গীতশিল্পীদের প্রতি অবহেলার বিষয়টি সরাসরি প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সিনেমা নির্মাণে তাদের অবদান অপরিসীম হলেও অনেক শিল্পী এখনও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা, স্বীকৃতি ও সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
সোমবার রাত ১০টায় সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ন্যান্সি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে সরাসরি লক্ষ্য করে বলেছেন, “চলচ্চিত্রের প্রতিটি ধাপে আমরা অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত থাকি, তবুও প্রতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আমাদের অবদান প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। আমাদের জন্য সম্মানজনক কর্মপরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত।” তিনি বিশেষ করে বিএফডিসি প্রাঙ্গণে সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য আলাদা আসন, বিশ্রামকক্ষ এবং খাবার ও পানীয় সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।
ন্যান্সি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (BFDC) বর্তমানে কেবল কিছু গায়ক, গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালককে সুবিধা প্রদান করে, কিন্তু অধিকাংশ শিল্পী এখনও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তার এই আবেদন চলচ্চিত্রে নিযুক্ত সকল সঙ্গীতশিল্পীর সমষ্টিগত কণ্ঠের প্রতিফলন।
নীচের টেবিলে শিল্পীদের প্রধান দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রস্তাবিত উন্নয়নমূলক ব্যবস্থা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| সুবিধা | বর্তমান পরিস্থিতি | প্রস্তাবিত ব্যবস্থা |
|---|---|---|
| আসনসংস্থান | সীমিত ও অস্বস্তিকর | বিএফডিসি প্রাঙ্গণে আলাদা আসন ব্যবস্থা |
| বিশ্রাম ও খাবার | নেই | পর্যাপ্ত বিশ্রামকক্ষ ও খাবারের ব্যবস্থা |
| স্বীকৃতি ও মর্যাদা | সীমিত | প্রতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সম্মানজনক মর্যাদা |
| আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা | আংশিক | সকল শিল্পীর জন্য পূর্ণাঙ্গ সহায়তা প্যাকেজ |
ন্যান্সি জানান, “আমরা চাই আমাদের কাজের যথাযথ স্বীকৃতি এবং সুব্যবস্থা। এটি কেবল শিল্পীদের জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও যুক্ত করেছেন যে, সঙ্গীতশিল্পীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা হলে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় সমন্বয়, উৎপাদনশীলতা এবং সৃজনশীল মান উন্নত হবে।
ন্যান্সির এই আবেদন বাংলাদেশি চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ক্ষেত্রে একটি ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের প্রতিফলন, যেখানে শিল্পীরা তাদের অধিকার, স্বীকৃতি এবং প্রাসঙ্গিক সুবিধার দাবিতে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আসছেন।