খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি (ICC) ইতিমধ্যে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে মূল পর্বে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন সূচি প্রকাশ করেছে। একটি উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট শক্তির এই আকস্মিক অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভারসাম্য ও ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্রিকেটারদের বৈশ্বিক সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (WCA)।
গতকাল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ডব্লিউসিএ-র প্রধান নির্বাহী টম মোফাট এই পরিস্থিতিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মতো একটি আবেগপ্রবণ ক্রিকেটীয় জাতির বিশ্বমঞ্চ থেকে ছিটকে পড়া কেবল ওই দেশের খেলোয়াড় বা সমর্থকদের জন্য নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক সৌন্দর্যের জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি। মোফাট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সংকটে তাঁরা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘কোয়াব’ (COAB)-এর পাশে রয়েছেন এবং খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ডব্লিউসিএ-র পর্যবেক্ষণ:
| বিষয়ের বিবরণ | বর্তমান অবস্থা ও প্রভাব |
| আইসিসির চূড়ান্ত পদক্ষেপ | বাংলাদেশকে বহিষ্কার ও স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্তিকরণ। |
| ডব্লিউসিএ-র মূল অবস্থান | খেলোয়াড়দের মর্যাদা ও ন্যায্য অংশগ্রহণের অধিকার রক্ষা। |
| প্রধান উদ্বেগ | অর্থবহ আলোচনার অভাব এবং বৈশ্বিক পরিচালন কাঠামোর ত্রুটি। |
| সম্ভাব্য ঝুঁকি | ক্রিকেট বিশ্বের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও আস্থার সংকট। |
| আহ্বান | শাসন সংস্থা ও খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভাজন দূর করে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। |
| সহযোগিতা | কোয়াব ও বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রতি নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন। |
ডব্লিউসিএ মনে করে, বাংলাদেশের এই পরিস্থিতির নেপথ্যে বিশ্ব ক্রিকেটের বর্তমান পরিচালন কাঠামোর গুরুতর সমস্যাগুলো দায়ী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে চুক্তির অমর্যাদা করা, খেলোয়াড়দের অধিকার ক্ষুণ্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এই ধরণের আচরণ মানুষের প্রতি এক ধরণের অবহেলার ইঙ্গিত দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটের সুস্থ পরিবেশ ও সংহতিকে দুর্বল করে তুলবে।
টম মোফাট বলেন, “ক্রিকেট তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়, যখন প্রতিটি দল ও প্রতিটি খেলোয়াড়কে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়। সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট সার্থক হয়ে ওঠে।” তিনি মনে করেন, বিভাজন বা বর্জন নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই ক্রিকেটের নেতাদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
বিবৃতিতে বিশ্ব ক্রিকেটের মোড়লদের প্রতি একটি আত্মপর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। ডব্লিউসিএ-র মতে, এই বিচ্ছেদ বা অনুপস্থিতি ক্রিকেটের জন্য একটি সংকেত। যদি এখনই শাসন সংস্থা, লিগ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনা না যায়, তবে খেলাটির দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য হুমকিতে পড়বে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যাতে বিশ্বমঞ্চে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ ফিরে পায়, সে লক্ষ্যে বিসিবি এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে ডব্লিউসিএ। তারা বিশ্বাস করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতাই পারে বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটকে আরও বিকশিত করতে।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জৌলুস কিছুটা হলেও ম্লান করবে—এমনটিই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠনের এই কড়া বার্তা বিশ্ব ক্রিকেটের রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ক্রিকেটারদের অধিকার রক্ষা ও মাঠের লড়াইকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখাই হবে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রক্ষার একমাত্র উপায়।