বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবার জুলাই-আগস্টে আয়ারল্যান্ড সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। তবে লজিস্টিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই সিরিজটি বাতিল করেছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড (সিআই)। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করেছে ইএসপিএন ক্রিকইনফো, যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ পাঠানো হয়নি।
এক আইরিশ কর্মকর্তা জানান, শুরু থেকেই এই সিরিজ আয়োজন নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা ছিল। বাংলাদেশ দলের জন্য জুনে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর আয়ারল্যান্ড সফরের কথা থাকলেও, ফাইনাল সূচিতে টাইগারদের নামটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আয়ারল্যান্ড বোর্ডের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং লজিস্টিক সমস্যাই মূল কারণ। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, সফরের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট, ভিসা ও ট্রান্সপোর্টেশন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা কঠিন ছিল। ফলে আগামী জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ দলের কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ আর হচ্ছে না। এই কারণে বাংলাদেশ দলকে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের জন্য অপেক্ষা করতে হবে প্রায় দেড় মাস।
আয়ারল্যান্ডের নতুন গ্রীষ্মকালীন সূচি
আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড শুক্রবার নতুন গ্রীষ্মকালীন সূচি প্রকাশ করেছে। সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ দল বাতিল হলেও আয়ারল্যান্ড অন্য আন্তর্জাতিক দলগুলোর সঙ্গে সিরিজ খেলবে।
| তারিখ |
সিরিজ/ম্যাচ |
বিপক্ষ দল |
স্থান |
| মে 2026 |
চারদিনের টেস্ট |
নিউজিল্যান্ড |
আয়ারল্যান্ড |
| জুন 2026 |
২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি |
ভারত |
আয়ারল্যান্ড |
| জুলাই-আগস্ট 2026 |
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি |
আফগানিস্তান |
আয়ারল্যান্ড |
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ বাতিল হওয়ায় আইরিশরা আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। তবে ভারত, আফগানিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সব সিরিজ পূর্বনির্ধারিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ দলের কোচ এবং সিনিয়র ক্রিকেটাররা জানিয়েছে, সফর বাতিল হওয়ায় খেলোয়াড়দের জন্য পরিকল্পনা কিছুটা পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়া, ঘরোয়া ক্রিকেট এবং প্রশিক্ষণের ওপর বেশি মনোযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে জুনের অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর থেকে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ম্যাচ প্রস্তুতি বজায় রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফলে, বাংলাদেশের আয়ারল্যান্ড সফর বাতিল হওয়া শুধু দুটি দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে না, বরং টাইগারদের গ্রীষ্মকালীন প্রস্তুতি ও খেলোয়াড়দের ফর্ম নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফ থেকে আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে আর্থিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ সমাধান করে আয়ারল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সিরিজ আয়োজন করা সম্ভব হবে।