খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
বাংলার গণিতচর্চার ইতিহাসে যে কজন মনীষী চিরকাল স্মরণীয় হয়ে আছেন, তাঁদের অন্যতম প্রজ্ঞা ও প্রতিভায় আলোকিত নাম গণিত সম্রাট যাদব চন্দ্র চক্রবর্তী। গণিতে তাঁর অসামান্য অবদান ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘গণিত সম্রাট’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
১৮৫৫ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া যাদব চন্দ্র ছোটবেলা থেকেই গণিতের প্রতি গভীর মুগ্ধতা দেখিয়েছিলেন। পিতা কৃষ্ণ চন্দ্র চক্রবর্তী ও মাতা দুর্গা সুন্দরীর শিক্ষানুরাগী পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই প্রতিভাধর少年 অল্প বয়সেই গণিতে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন।
প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গণিতে এমএ ডিগ্রি অর্জনের পর তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সূচনা হয় কলকাতা সিটি কলেজে। এ সময়েই তিনি পাটিগণিত নিয়ে গবেষণা ও রচনায় মনোনিবেশ করেন। তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্যার সৈয়দ আহমদ খান তাঁকে আলীগড় কলেজে পাটিগণিতের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেন। যাদব চন্দ্রের গবেষণার জন্য শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্যার সৈয়দ নিজ উদ্যোগে তাঁর জন্য আলাদা বাংলো ভাড়া করে দেন—যা শিক্ষকদের প্রতি অনন্য সম্মানের এক নজির।
১৮৯০ সালে প্রকাশিত তাঁর ইংরেজি পাটিগণিত গ্রন্থ উপমহাদেশে গণিতশিক্ষায় বিপ্লব ঘটায়। বইটি দ্রুত বাংলা, উর্দু, হিন্দি, অসমিয়া, নেপালি ও মায়াবীসহ বহু ভাষায় অনূদিত হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তী সময়ে ১৯১২ সালে প্রকাশিত তাঁর বীজগণিত গ্রন্থও সমানভাবে প্রশংসিত হয়।
১৯১৬ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়ে যাদব চন্দ্র ফিরে আসেন তাঁর জন্মভূমি সিরাজগঞ্জে। এর আগেই, ১৯০১ সালে তিনি ধানবান্ধি এলাকায় একটি বাসভবন নির্মাণ করে সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। অবসরজীবনে সেই ঘরই হয়ে ওঠে তাঁর অধ্যয়ন ও গবেষণার নীরব স্থান। পাশাপাশি গ্রামের বাড়ি তেঁতুলিয়ায় তিনি একটি মন্দির নির্মাণ করেন, যা আজও তাঁর স্মৃতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
১৯২০ সালের ২৬ নভেম্বর কলকাতার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহান গণিতজ্ঞ। ৬৫ বছরের জীবনে তিনি রেখে গেছেন শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতির এক অমূল্য ধারা।
বাংলার গণিতচর্চার এই উজ্জ্বল নক্ষত্র গণিত সম্রাট যাদব চন্দ্র চক্রবর্তীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাঁর অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে বাংলার জ্ঞানচর্চাকে প্রেরণা দিয়ে যাবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন