খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুল ইউনিয়নে এক ভয়ানক ঘরোয়া হত্যাকাণ্ডের রায় প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি ভোরে নামাজরত অবস্থায় গৃহবধূ শাহানারা বেগমকে তাঁর স্বামী গোলাম সারোয়ার (৪০) গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেছিলেন। দীর্ঘ চার বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম সিকদার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গোলাম সারোয়ার ও শাহানারার দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তান রয়েছে। হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের সময় নিহতের একমাত্র ছেলে ঘরের মধ্যে উপস্থিত ছিল; তখন তার বয়স মাত্র ৯ বছর। আদালতে তার সাক্ষ্য হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত | শাহানারা বেগম |
| অভিযুক্ত | গোলাম সারোয়ার, বয়স ৪০ বছর |
| পরিবার | দুই সন্তানসহ সংসার |
| তারিখ | ৩ জানুয়ারি ২০১৮ |
| স্থান | মুছাপুল ইউনিয়ন, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী |
| মামলা দায়ের | নিহতের বাবা, ৩ জানুয়ারি ২০১৮ |
| আদালত | নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ |
| রায় | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড |
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. সেলিম শাহী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নামাজরত অবস্থায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আদালত আজ রায় দিয়েছেন। এই রায় সমাজে নারী নির্যাতন এবং গৃহহিংসা রোধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।”
মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছিল, দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক অমীমাংসিত বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। আদালত তার দায় প্রমাণিত হওয়ায় এই কঠোর রায় দিয়েছেন।
নির্যাতন প্রতিরোধে এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এমন রায় সমাজে একটি দৃঢ় বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গৃহহত্যার মতো ঘটনায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি অপরাধের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ঘটনায় নিহতের দুই সন্তান বর্তমান সময়ে আত্মীয়-স্বজনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। স্থানীয় সমাজকর্মীরা জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় নারী নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্কতা বাড়াতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।