খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২২ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘সম্প্রীতি যাত্রা’-এর আয়োজনে শুক্রবার বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের মুক্তি দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন বাউল–সুফি সংগঠন, সাংস্কৃতিক অঙ্গন, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রার্থনামূলক পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড, যেমন ‘আবুল সরকারের মুক্তি চাই’, ‘গান, জ্ঞান ও ভক্তির নিরাপত্তা চাই’, যা শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর চলমান হয়রানি ও বৈষম্যের প্রতিবাদ নির্দেশ করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুফি জাগরণ পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সুবিচারহীনতার বিরুদ্ধে সবসময় বাউলরা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। পরিকল্পিতভাবে শিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবিলম্বে মুক্তি না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।” বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার বলেন, “একদিন পৃথিবীটা বাউলের হবে। শিল্পীদের ওপর হামলা এবং গ্রেপ্তার মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মেঘমল্লার বসু বলেন, “সরকার একদিকে লালনের অনুষ্ঠানকে উদযাপন করে, অন্যদিকে বাউল-ফকিরদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদ প্রতিহত করতে হবে।” মানববন্ধনে আহলে সুন্নত জামায়াতের নেতা তিন দিনের আল্টিমেটাম দেন। বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিক সরকার বলেন, “শিল্পীর মুক্তি না পেলে দেশের ২০ লাখ বাউল-ফকির রাস্তায় নামবেন।”
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলটি দক্ষিণ প্লাজার সামনে থেকে শুরু হয়ে খেজুরবাগান মোড় ঘুরে আবার একই স্থানে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে শিল্পীর মুক্তি, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এবং বৈষম্যবিরোধী অবস্থান প্রকাশ করেন। এই কর্মসূচি দেশের সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্দোলনে নতুন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করেছে।