খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে মাঘ ১৪৩২ | ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মেহেদী হাসান ওরফে দীপু। শুক্রবার সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর একটি বিশেষ দল বাড্ডার বেপারিপাড়া এলাকায় দীপুর নিজস্ব বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য অর্জন করে। এই গ্রেপ্তার ও বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা রাজধানীর অপরাধ জগতের নেপথ্য চিত্রকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
যৌথ বাহিনীর তথ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্য বাড্ডার ওই বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের পরিমাণ ও ধরন দেখে খোদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিস্মিত। পুলিশ জানায়, এটি কেবল একটি সাধারণ বাসস্থান ছিল না, বরং অপরাধ জগতের একটি মিনি অস্ত্রাগার হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামের তালিকা:
| সরঞ্জামের ধরন | পরিমাণ/বিবরণ |
| অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল | ১১টি |
| গুলি (রাউন্ড) | ৩৯৪টি |
| উজি (Uzi) মেশিনগান রাইফেল | ১টি (২২ বোর) |
| পিস্তল ম্যাগাজিন | ৮টি |
| উজি রাইফেল ম্যাগাজিন | ২টি |
| চায়নিজ কুড়াল ও কমান্ডো চাকু | ৩টি কুড়াল, ১টি টাইগার হান্টিং চাকু |
| যোগাযোগ সরঞ্জাম | ২টি ওয়াকিটকি ও ব্যাটারি |
| অন্যান্য | ১টি ল্যাপটপ ও ৩টি পিস্তল কভার |
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মেহেদী হাসান দীপু মূলত নব্বইয়ের দশকের কুখ্যাত সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ডান হাত হিসেবে পরিচিত। সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ গত বছরের মে মাসে কুষ্টিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর, তাদের অবর্তমানে রাজধানীর রামপুরা, বনশ্রী, বাড্ডা, ভাটারা এবং গুলশান এলাকার অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন দীপু।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীপু কেবল চাঁদাবাজি নয়, বরং ভাড়াটে খুনি সরবরাহ এবং অবৈধ অস্ত্র ভাড়ায় দেওয়ার সিন্ডিকেটও পরিচালনা করতেন। বাড্ডা ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর ভাই আলমগীরের সঙ্গেও দীপুর ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে। মেরুল বাড্ডার মাছের আড়ত, তৈরি পোশাক কারখানা এবং গাড়ির শোরুম থেকে নিয়মিত মাসোহারা তোলা ছিল তাঁর আয়ের অন্যতম উৎস।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বর্তমানে সুব্রত বাইন কুমিল্লার কারাগারে থাকলেও তাঁর অপরাধ জগত সচল ছিল দীপু ও সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিনের মাধ্যমে। খাদিজা কারাগারে বাবার সাথে দেখা করে দীপু ও মধু বাবুর মতো সহযোগীদের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা ও নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন। সম্প্রতি গুলশানে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী সুমন হত্যা এবং হাতিরঝিলে যুবদল নেতা আরিফ সিকদার হত্যার পেছনেও এই চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর আজ শনিবার মেহেদী হাসান দীপুকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই সুমন মিয়া আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে পুলিশ জানায়, দীপু অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে, তাই প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে দীপুর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।