চলতি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের সাফল্যের সম্ভাবনা প্রায় শেষ। তাই এবারের আসর নিয়ে আর বড় কোনো প্রত্যাশা করছেন না পাকিস্তান টেস্ট দলের অধিনায়ক বাবর আজম। তাঁর দৃষ্টি এখন পরবর্তী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের দিকে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গড়ে তুলতে চান তিনি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন বাবর। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বর্তমান চক্রের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগোতে চায় পাকিস্তান। শুধু তাৎক্ষণিক সাফল্য নয়, আগামী কয়েক বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী টেস্ট দল তৈরি করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
বাবর জানান, ইংল্যান্ড সফরের পর থেকেই পাকিস্তান দল নতুনভাবে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। দলের বর্তমান কাঠামোতে তরুণ ক্রিকেটারের সংখ্যা বেশি। তাই ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দল খুবই তরুণ। ইংল্যান্ড সফরের পর আমরা অন্য পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছি।’
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে তলানিতে পাকিস্তান
চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার ধারেকাছেও যেতে পারেনি। এখন পর্যন্ত ৯টি ম্যাচ খেলে সাতটিতেই হেরেছে দলটি। পয়েন্টের শতকরা হিসাবে তাদের অর্জন মাত্র ৪.৬৩ শতাংশ। এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে প্রতিযোগিতার পয়েন্ট তালিকায় তলানিতে রয়েছে পাকিস্তান।
টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের ঐতিহ্য ও অতীত সাফল্যের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। একসময় নিজেদের মাঠে এবং বিদেশের মাটিতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত ছিল দলটি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকতার অভাব, দলীয় সমন্বয়ের ঘাটতি এবং প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় তাদের অবস্থান দুর্বল হয়েছে।
বাবরও বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর মতে, চলতি চক্রে পাকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় শেষ। তাই এখনকার ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে পরবর্তী আসরের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই বেশি জরুরি।
পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘এ বছরের ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা প্রায় ছিটকে গেছি। তাই আমাদের নজর এখন পরের চক্রে। আমরা আসন্ন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তৈরি হচ্ছি। প্রতিযোগিতামূলক দল গড়তে আমরা আলাদা পথ নিয়েছি।’
তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞদের সমন্বয় চান বাবর
পরবর্তী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দল গঠনের ক্ষেত্রে তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে ভারসাম্য রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বাবর। তাঁর পরিকল্পনায় তরুণদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নেতৃত্ব ও দক্ষতাও কাজে লাগানো হবে।
টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে ভালো করতে হলে শুধু প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটার থাকলেই চলে না। প্রয়োজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দিকনির্দেশনা, চাপ সামলানোর মানসিকতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা। বাবর মনে করেন, দুই প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সমন্বয় ঘটাতে পারলে পাকিস্তান একটি শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছি। এতে একটি শক্তিশালী জুটি গড়ে উঠবে। আমরা চাই তরুণরা টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের মেলে ধরুক এবং ভালো খেলুক।’
তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য টেস্ট দলে নিয়মিত সুযোগ তৈরি করাও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে মানিয়ে নিতে সময় ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তাই ভবিষ্যতের দল গঠনের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখা এবং তাদের ধারাবাহিকভাবে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কা সিরিজ দিয়েই নতুন পরিকল্পনার পরীক্ষা
পরবর্তী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত পাকিস্তানের মনোযোগ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে। ঘরের মাঠে এই সিরিজে ভালো ফল করতে চাইবে দলটি। একই সঙ্গে নতুন পরিকল্পনার আওতায় থাকা ক্রিকেটারদের সামর্থ্য যাচাইয়েরও সুযোগ তৈরি হবে।
বাবর আশা করছেন, তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়ে তোলা দল ভবিষ্যতে পাকিস্তানকে আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবে। তাঁর বিশ্বাস, পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন হলে দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘আশা করি এই পথ আমাদের দলকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এটা সিনিয়র ও জুনিয়রদের মিশ্রণ। ইনশাআল্লাহ, আপনারা একটি আলাদা দল দেখবেন।’
চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের হতাশাজনক অবস্থান এখন আর আড়াল করার সুযোগ নেই। তবে সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে দল সাজানোর যে পরিকল্পনার কথা বাবর জানিয়েছেন, তার বাস্তবায়নই হবে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য বড় পরীক্ষা। এবারের চক্রে সাফল্য না এলেও পরবর্তী আসরে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা নিয়েই এগোতে চায় দলটি।


