খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে মাঘ ১৪৩২ | ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কর্ণফুলী নদীর পাড়ের বাসিন্দারা বালু উত্তোলনের কারণে বাড়িঘর ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছেন। নদী ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তারা এমন প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যিনি স্থানীয় বাস্তুসংস্থান রক্ষায় উদ্যোগী হবেন।
গোডাউন ব্রিজ সংলগ্ন পশ্চিম সরফভাটা এলাকার খোরশেদ আলম বলেন, “যে হারে নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে, আগামী বর্ষায় আমাদের পূর্বপুরুষদের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে আশপাশের জমি তলিয়ে গেছে। বারবার বললেও বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। আমাদের ঘরবাড়ি রক্ষা করতে পারবে এমন প্রার্থীকে ভোট দেব।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু নদী ভাঙন নয়, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের যানজট, দুর্ঘটনা, শিল্পায়নের অভাব এবং উন্নত হাসপাতালের অভাবও তাদের নিত্যদিনের সমস্যা। রাঙ্গুনিয়ার কদমতলী, মরিয়মনগর, সরফভাটা ও কোদালা এলাকার মানুষ এই সমস্যার সমাধান চান।
গোডাউন ব্রিজ এলাকার যুবক শহীদুল্লাহ জানিয়েছেন, “আমাদের ৬০ শতক জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনরোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।” মরিয়মনগরের রফিক উদ্দিনও জানিয়েছেন, গত বর্ষায় বালু উত্তোলনের কারণে তাদের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয় মাওলানা আবুল কালাম বলেন, “দিনদুপুরে বালু উত্তোলন চলছে। বাড়ি ও মসজিদ ভাঙনের পথে, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেই।”
রাঙ্গুনিয়া এলাকার কৃষকরা গুমাই বিল রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। মরিয়মনগর থেকে চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান পর্যন্ত সড়কের পাশে কৃষিজমি দখল করে ইটভাটা স্থাপন ধানের ফলনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। কৃষক নাছির উদ্দিন বলেন, “পানি না পাওয়ায় ধানের রোপণ দেরি হয়েছে, ফলন কমবে। নতুন স্থাপনা ও ইটভাটা বন্ধ করতে হবে।”
নির্বাচনী সমীক্ষা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী অগ্রগামী। এরপরে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামের এ টি এম রেজাউল করিম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এম ইকবাল হাছান। মোট ভোটার সংখ্যা ৩,১৯,৮০৮ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১,৬৭,৫৩১, নারী ১,৫১,৪৭৬ এবং হিজড়া ১ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ হবে ৯২টি কেন্দ্র থেকে।
নিচের টেবিলে নদী ভাঙন ও নির্বাচনী এলাকার প্রধান তথ্য দেখানো হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রধান সমস্যা | বালু উত্তোলন, নদী ভাঙন, যানজট, দুর্ঘটনা, শিল্পায়নের অভাব |
| ভাঙনের প্রভাব | বসতভিটা বিলীন, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত, মসজিদ ও কাঠামো ভাঙনপ্রবণ |
| নির্বাচনী আসন | চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) |
| ভোটার সংখ্যা | ৩,১৯,৮০৮ (পুরুষ ১,৬৭,৫৩১, নারী ১,৫১,৪৭৬, হিজড়া ১) |
| ভোটকেন্দ্র | ৯২ |
| মূল প্রতিদ্বন্দ্বী | হুমাম কাদের চৌধুরী, এ টি এম রেজাউল করিম, এম ইকবাল হাছান |
বাসিন্দারা স্পষ্ট করছেন, যে প্রার্থী নদী ভাঙন রোধে এবং বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন, তাকে তারা ভোট দেবেন। এছাড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তাও নির্বাচনী চাহিদার মূল।