খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে এবারের চাহিদা রেকর্ড গড়েছে। ১৬ মার্চ পর্যন্ত সংরক্ষিত ৩৫ আসনের জন্য দলটির মধ্যে ৫০০-এর বেশি প্রার্থী আবেদন করেছেন। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে আসা আবেদনগুলোতে নারী নেত্রীদের রাজনৈতিক জীবনের বিস্তৃত তথ্য, দলীয় কর্মকাণ্ড, মিছিল ও মিটিংয়ের ছবি সংযুক্ত রয়েছে।
বিএনপির পল্টন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবেদনগুলো সরাসরি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর পাঠানো হয়েছে। একটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাত্র কয়েক দিনে এত সংখ্যক আবেদন জমা পড়া দলীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা। আবেদন যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত মনোনয়ন দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে।
খুলনা থেকে আবেদন করা এক নারী নেত্রী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দলের জন্য বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাই সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তারেক রহমান জীবনবৃত্তান্ত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রার্থীরা বিভিন্ন পেইজ খুলে নিজস্ব প্রচারণা চালাচ্ছেন। পেইড প্রচার সহ মিছিল ও মিটিংয়ের ছবি শেয়ার করে দলীয় হাইকমান্ডের নজর আকর্ষণ করার চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মহিলা দলের নেত্রী ও অতীতের ছাত্রদল নেত্রীরা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে ঈদের পর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনে যে দল কতটি আসনে জয়ী হয়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। এবারের নির্বাচন অনুযায়ী বণ্টন নিম্নরূপ:
| দল | সাধারণ আসনে জয় | সংরক্ষিত নারী আসন |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) | ২০৯ | ৩৫ |
| বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী | ১১ | ১১ |
| জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) | ১ | ১ |
| অন্যান্য স্বতন্ত্র ও ছোট দল | – | ৩ |
ত্রয়োদশ সংসদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৯৯টি আসনে ৮৬ জন নারী প্রার্থী ছিলেন, যার মধ্যে ৭ জন জয়ী হয়েছেন। সংরক্ষিত ৫০ আসন যুক্ত হলে সংসদে মোট নারী সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৭ জন, যা ৩৫০ সদস্যের সংসদে প্রায় ১৬ শতাংশ।
দলীয় সূত্রের মতে, প্রার্থীদের মনোনয়ন নিয়ে এখনই কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে সকলের নজর এখন চূড়ান্ত মনোনয়নের ঘোষণা ও তারিখের দিকে। সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিযোগিতা এবং তৎপরতা দলীয় রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, সংরক্ষিত আসন কেবল নীতিগত গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং দলীয় রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও প্রভাবের স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।