খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে যায়। সেই সময়ের অন্তর্বর্তী সরকারের নানা চাপে এবং সংসদ, সুপ্রিম কোর্ট, প্রশাসনিক স্থাপনার পরিবর্তনের মধ্যেও মো. সাহাবুদ্দিন টিকে ছিলেন রাষ্ট্রপদে। সেই সময়ে কেন বিএনপি তার পাশে দাঁড়াল এবং রাষ্ট্রপতিকে বহাল রাখতে অনড় ছিল, তা আজও আলোচনার বিষয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ বা পদত্যাগের দাবি অন্তত দুই দফায় উঠে। বঙ্গভবন ঘেরাও, গণজমায়েত এবং বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হলেও তিনি তাঁর পদে অবিচল থাকেন। নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শপথ প্রদান করে তিনি দেশের সর্বোচ্চ সংবিধান রক্ষাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।
রাষ্ট্রপতি নিজেই একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।” তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও তার অপসারণের চেষ্টা হয়েছিল, তবে বিএনপি জোট ও সশস্ত্র বাহিনী তাকে সমর্থন যুগিয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রাষ্ট্রপদে শপথ গ্রহণ | ২৪ এপ্রিল ২০২৩ |
| নির্বাচিত হওয়ার তারিখ | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা) |
| ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান | আওয়ামী লীগের প্রার্থী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য |
| শপথ প্রদানের পর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তর | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ |
| বিএনপির সমর্থন | অন্তর্বর্তী সরকারে রাষ্ট্রপতির অপসারণের বিরোধিতা |
রাষ্ট্রপতির টিকে থাকার মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজনকে উল্লেখ করেছেন বিএনপির নেতারা। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি অপসারণ হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও বিপন্ন হতে পারত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, “রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন অনিশ্চিত হোক, সেটি বিএনপি চায়নি। যত দ্রুত নির্বাচন হবে, দলটির সাফল্যের সম্ভাবনা তত বেশি। তাই তারা রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিরোধিতা করেছে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং এবং বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি অভিযোগ তুলেছেন, তাকে নিয়ম অনুযায়ী অবহিত করা হয়নি এবং রাষ্ট্রপতির ছবি বিদেশে মিশন থেকে নামানোর ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া গণ-অভ্যুত্থানের কিছু সংগঠনের চাপে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে বিএনপি ও জোটসঙ্গীদের সমর্থনে তা ব্যর্থ হয়।
রাষ্ট্রপতি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, “বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা আমার পাশে রয়েছে এবং কোনো অবৈধভাবে আমাকে অপসারণ করা যাবে না।” তিন বাহিনীও সমর্থন যুগিয়ে বলেছিল, “আপনি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, আপনার পরাজয় মানে পুরো বাহিনীর পরাজয়।”
মো. সাহাবুদ্দিন এই সময়কে “অত্যন্ত কঠিন সময়” আখ্যায়িত করে বলেন, “এই কঠিন সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন এবং সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানান। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। আমার দুঃসময়ে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত ছিল।”
এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মাঝেও বিএনপি এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনী রাষ্ট্রপতির পক্ষে স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সংবিধান রক্ষার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।