খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবল আশঙ্কায় জনসাধারণের জানমাল রক্ষার্থে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের সময় অসতর্কতা ও অসচেতনতাই প্রাণহানির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই জানমাল রক্ষায় নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তামূলক নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া। সংস্থাটির মূল স্লোগান হলো: ‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই।’ আকাশে ঘন কালো মেঘ জমলে বা বজ্রপাতের শব্দ শোনা মাত্রই কোনো বিলম্ব না করে নিরাপদ ভবনে অবস্থান নিতে হবে।
বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাসে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনাগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ঘরোয়া পরিবেশে সতর্কতা:
বজ্রপাত চলাকালীন সময় বাড়িতে থাকলে দরজা এবং জানালা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। জানালার গ্রিল, বারান্দার রেলিং বা কোনো প্রকার ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে এই সময় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্লাগ খুলে রাখা নিরাপদ। এছাড়া উঠানে কাজ করা বা শিলা কুড়ানো থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
২. খোলা স্থানে অবস্থান ও খেলাধুলা:
খোলা মাঠে অবস্থান করা বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময় মাঠে কাজ করা, ফুটবল-ক্রিকেট খেলা বা ঘুড়ি ওড়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। কোনো খোলা জায়গায় একা বা দলবদ্ধ হয়ে থাকা যাবে না। অনেক সময় মানুষ বিদ্যুৎ চমকানোর সময় মাটিতে শুয়ে পড়ে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক; অধিদপ্তর এই কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছে।
৩. জলাশয় ও গাছপালা থেকে দূরে থাকা:
বজ্রপাতের সময় নদী, পুকুর, হাওর বা যেকোনো জলাশয়ে মাছ ধরা বা গোসল করা জীবনঘাতী হতে পারে। এছাড়া উঁচু গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা ধাতব টাওয়ারের নিচে আশ্রয় নেওয়া যাবে না, কারণ বজ্রপাত সাধারণত উঁচু ও ধাতব বস্তুর ওপর সরাসরি আঘাত হানে।
নিচে বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত নির্দেশিকা প্রদান করা হলো:
| বিষয় | করণীয় | বর্জনীয় |
| আশ্রয়স্থল | পাকা দালান বা কংক্রিটের ছাদযুক্ত ঘর। | বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা টিনের চালা। |
| গৃহস্থালি কাজ | ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা ও জানালা বন্ধ রাখা। | ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার ও জানালার গ্রিল স্পর্শ করা। |
| বাইরে থাকলে | দ্রুত কোনো নিরাপদ আবৃত স্থানে প্রবেশ করা। | খোলা মাঠে থাকা বা পানিতে নেমে কাজ করা। |
| সময়কাল | শেষ বজ্রধ্বনির পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করা। | মেঘের ডাক থামার সাথে সাথেই ঘর থেকে বের হওয়া। |
| যানবাহন | গাড়ির জানালার কাঁচ বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান করা। | সাইকেল, মোটরসাইকেল বা খোলা রিকশায় চলাচল। |
আবহাওয়া অধিদপ্তর বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, বজ্রধ্বনি শোনা মানেই আপনি বজ্রপাতের ঝুঁকির সীমানার মধ্যে অবস্থান করছেন। বজ্রপাত কেবল বৃষ্টি চলাকালীন নয়, বরং বৃষ্টি শুরুর আগে এবং বৃষ্টি শেষ হওয়ার পরেও হতে পারে। তাই বজ্রধ্বনি থামার পরেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। শেষ বজ্রধ্বনি শোনার পর অন্তত ৩০ মিনিট পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
বজ্রপাত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে অন্যতম প্রাণঘাতী। অধিদপ্তরের এই সতর্কবার্তা মেনে চললে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে খোলা মাঠ ও জলাশয়ের পরিমাণ বেশি, সেখানে কৃষি কাজ ও মাছ ধরার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সবশেষে, পরিবার ও শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত ঘরে ফেরা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বাইরে না যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।