খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম তথা জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সেলিমা রহমান তৃতীয়বারের মতো সংরক্ষিত নারী আসনে দলের মনোনয়ন লাভ করেছেন। এর আগে ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে তিনি বরিশাল অঞ্চল থেকে বিএনপির হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এবারও তাঁর দল তাঁকে বরিশাল জেলা থেকেই সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। নির্বাচনী বিধি মোতাবেক নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিলকৃত তাঁর সর্বশেষ হলফনামা ও আয়কর বিবরণী বিশ্লেষণে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আয়কর বিবরণীতে সেলিমা রহমান তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩৭ টাকা। পেশা হিসেবে রাজনীতি উল্লেখ করা এই জ্যেষ্ঠ নেত্রীর আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া এবং বিনিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।
হলফনামার তথ্যমতে, তাঁর মালিকানাধীন ১০ হাজার ৬১২ বর্গফুটের একটি বিশালাকার বাড়ি রয়েছে। এই বাড়িটির আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬২ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫ টাকা। তবে নথিতে বাড়িটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা এটি আবাসিক না বাণিজ্যিক ভবন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি। এ ছাড়া স্থাবর সম্পত্তি (বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট) থেকে তাঁর বার্ষিক আয় হয় ৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
সেলিমা রহমানের কাছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানত রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী তাঁর কাছে নগদ টাকার পরিমাণ ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ৭৭৫ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর জমা রয়েছে ৩ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৭ টাকা। তাঁর বিনিয়োগের পরিমাণ ২৮ লাখ ১১ হাজার ২৩৯ টাকা।
পরিবহন ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, তিনি একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন যার ক্রয়কালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে গাড়ির মডেল বা ধরন হলফনামায় উল্লেখ নেই। এ ছাড়া তাঁর মালিকানায় ৩০ ভরি সোনা রয়েছে যার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
| সম্পদের খাত | বিবরণ/পরিমাণ | প্রদর্শিত মূল্য (টাকা) |
| নগদ অর্থ | নিজের কাছে গচ্ছিত | ৭০,৯৯,৭৭৫ |
| ব্যাংক জমা | বিভিন্ন ব্যাংকে আমানত | ৩,১৭,৭০,৭৬৭ |
| বাড়ি/ভবন | ১০,৬১২ বর্গফুট (অবস্থান অনুল্লেখিত) | ২,৬২,৪৫,১৯৫ |
| বিনিয়োগ | সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য বিনিয়োগ | ২৮,১১,২৩৯ |
| পরিবহন | ব্যক্তিগত গাড়ি (অর্জনকালীন মূল্য) | ৩৫,৮০,০০০ |
| স্বর্ণালঙ্কার | ৩০ ভরি (ক্রয়মূল্য) | ৫০,০০০ |
| আসবাবপত্র | গৃহস্থালি আসবাব | ১,৫০,০০০ |
| মোট সম্পদ | ৬,৮৮,৯৫,৭৩৭ |
সম্পদের পাশাপাশি হলফনামায় সেলিমা রহমান তাঁর দেনা বা ঋণের তথ্যও প্রকাশ করেছেন। তাঁর মোট ঋণের একটি বড় অংশ ফ্ল্যাট বিক্রির অগ্রিম অর্থ হিসেবে সংগৃহীত। হলফনামা অনুযায়ী, ফ্ল্যাট বিক্রির অগ্রিম বাবদ তাঁর দায় রয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ ছাড়া তিনি তাঁর মেয়ের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন এবং বাড়িভাড়া বাবদ ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকার একটি দেনার বিষয় উল্লেখ করেছেন।
সেলিমা রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৫ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হলে নির্বাহী আদেশে এই মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় মামলা নেই।
বরিশাল থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই রাজনীতিকের ঘোষিত সম্পদ ও আইনি স্থিতিশীলতা তাঁর সংসদীয় যাত্রায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।