খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে পৌষ ১৪৩২ | ১২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর ঢাকার মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। হত্যাকাণ্ডটি একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের নির্দেশে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে ১৫ লাখ টাকা চুক্তি মূলধন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ডিবি সূত্র জানায়, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী শেখ মোহাম্মদ আসলাম বা সুইডেন আসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা আসে। সুইডেন আসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিনাশ মালয়েশিয়ার মাধ্যমে ঢাকায় বিল্লালকে হত্যার মিশন দেয়। বিল্লাল তার দুই ভাই আব্দুল কাদির ও আব্দুর রহিমকে এবং আরও কয়েকজনকে এ হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য প্রলুব্ধ করেন।
ডিবি’র অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম রবিবার মিন্টো রোডে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘর্ষ এবং কারওয়ান বাজার নিয়ন্ত্রণই মূল কারণ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।”
গ্রেপ্তার চারজনের তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| নাম | সম্পর্ক | জন্মস্থান | বাসস্থান | অভিযোগিত ভূমিকা |
|---|---|---|---|---|
| মো. বিল্লাল | আব্দুল কাদির ও আব্দুর রহিমের ভাই | নরসিংদীর মনোহরদী, গগুলা গ্রাম | ঢাকা | হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও শ্যুটার নিয়ন্ত্রণ |
| আব্দুল কাদির | বিল্লালের ভাই | নরসিংদীর মনোহরদী, গগুলা গ্রাম | ঢাকা | হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ |
| জিন্নাত | – | পঞ্চগড়, আটোয়ারি মির্জাপুর | ঢাকা | হত্যার শ্যুটার |
| মো. রিয়াজ | – | পটুয়াখালীর বাউফল, দ্বিপাশা | ঢাকা | রেকি ও সহযোগিতা |
গত বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে দুর্বৃত্তরা মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। বর্তমানে মাসুদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ডিবি জানায়, হত্যার আগে আসামিরা ঘটনাস্থল রেকি করেছিলেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। হত্যার সঙ্গে যুক্ত চারজনকে সোমবার আদালতে হাজির করে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, “আসামিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তবে তারা কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা ছিল। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পর্কিত পুরনো বিরোধও হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ।”
তদন্ত সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে বিদেশে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং স্থানীয় সহযোগীদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট। মুছাব্বিরের হত্যার ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়, বরং কারওয়ান বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাতের ফলাফল।ভ