খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ায় চোরাচালান হওয়ার সময় ৯২৫টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টায় বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনাল এলাকা থেকে এই উভচর প্রাণীগুলো আটক করা হয়।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে মালয়েশিয়াগামী যাত্রী মোহাম্মদ শওকত আলী ভূঁইয়ার মালপত্র বা লাগেজ স্ক্যান করার সময় কচ্ছপের মতো বস্তু ধরা পড়ে। এরপর বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাকে ডাকলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এই ঘটনায় সন্দেহ ঘনীভূত হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বন্যপ্রাণী ইউনিটকে অবহিত করে।
বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বন্যপ্রাণী ইউনিট সম্মিলিতভাবে লাগেজগুলো পরীক্ষা করে। এর ফলে একটি সবুজ রঙের ব্যাগ থেকে ১৪৫টি স্টার টরটয়েজ (Star Tortoise) এবং একটি নীল রঙের ব্যাগ থেকে ৭৮০টি কড়িকাইট্টা (Indian Roofed Turtle) পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলোর মোট ওজন ৫৮ কেজি।
তিনি আরও বলেন, জব্দ করা বন্যপ্রাণীগুলো বন অধিদপ্তরের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং একইসঙ্গে পাচারকারী মোহাম্মদ শওকত আলী ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, দুই থেকে তিন দশক আগেও দেশের নদী, খাল, বিল, হাওর ইত্যাদি জলাশয়ে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ দেখা গেলেও, বাসস্থান নষ্ট হওয়া ও ক্রমাগত শিকারের কারণে এই জলজ প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বিদ্যমান কচ্ছপের যতগুলো প্রজাতি রয়েছে, নানা কারণে তার সবগুলোই কমবেশি বিপদের সম্মুখীন। প্রাণীটি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী সংরক্ষিত। তাই এটি শিকার, হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিসাধন করা ২০১২ এর ধারা ৬ এবং ৩৪(খ) অনুসারে দণ্ডনীয় অপরাধ।
খবরওয়ালা/টিএসএন