খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রমজান, আসন্ন গ্রীষ্মকাল এবং সেচ মৌসুমকে সামনে রেখে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশের দুই বৃহত্তম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট ও পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র—৪ হাজার ৭২৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বকেয়া ভর্তুকি না পাওয়ায় কয়লা আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংকটে পড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, বকেয়া ভর্তুকি পরিশোধ না হলে এই দুটি কেন্দ্র রমজান ও গ্রীষ্মে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে না। বর্তমানে এই কেন্দ্রগুলো জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বেস-লোড বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। গত আগস্ট থেকে ভর্তুকি পেমেন্ট বকেয়া রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সোলায়মান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “রমজান, সেচ মৌসুম ও গরমের সময় বাড়তি চাহিদা মেটানোর জন্য সময়মতো অর্থ প্রদান অপরিহার্য। বিলম্ব হলে সারাদেশে ২ হাজার থেকে ২৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সেচ প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে এবং জনমনে অসন্তোষ তৈরি হবে।”
বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই সংকট আরও জটিল হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে। ইরান–যুক্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী কাতার তাদের প্ল্যান্ট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দেশে কয়লা ও গ্যাস সরবরাহে আর্থিক ও লজিস্টিক চাপ বেড়েছে।
| কেন্দ্রের নাম | ক্ষমতা (মেগাওয়াট) | মাসিক প্রয়োজনীয় ভর্তুকি (কোটি টাকা) | বকেয়া ভর্তুকি (কোটি টাকা) | জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ (মেগাওয়াট) |
|---|---|---|---|---|
| রামপাল | 1,320 | 700–800 | 2,363 | 1,200 |
| পায়রা | 1,320 | 700–800 | 2,363 | 1,200 |
| মোট | 2,640 | 1,400–1,600 | 4,726 | 2,400 |
বিপিডিবি জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিদ্যুৎ ট্যারিফ সংশোধনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে নতুন ট্যারিফ প্রস্তাব জমা দিতে বৈদেশিক ঋণদাতাদের ছাড়পত্র প্রয়োজন, যা এখনও পাওয়া যায়নি।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে যে, ঋণদাতাদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। ট্যারিফ রিভিউ সম্পন্ন হলে সংশোধিত প্রস্তাব দ্রুত ক্রয় কমিটিতে পাঠানো হবে। তবে এই বিলম্ব অব্যাহত থাকলে রমজান, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে বিপিডিবি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ভর্তুকি বিলম্বের কারণে অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও অর্থায়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে এবং জনজীবন ও কৃষিকাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।