খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
পিরোজপুরের নাজিরপুরে ঘটে যাওয়া বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিঠারকুল গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বলে পরিচিত একটি চক্র নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের প্রতি যে নির্মম অবজ্ঞা দেখিয়েছে, তা এখন দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, অভিযুক্ত পাঁচজনের নেতৃত্বে হেলাল সিকদার নামের ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে রেখেছেন। ফোরকান মোল্লা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ভুক্তভোগীর স্বামীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকার জের ধরে ওই নারীকে টার্গেট করা হয়। গত ৬ আগস্ট রাতে ফোরকান তাদের বাড়িতে গেলে আগে থেকেই ওতপেতে থাকা অভিযুক্তরা বাড়িতে ঢুকে পড়ে এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নারী ও ফোরকানকে বেঁধে ফেলে।
পরবর্তীতে তাদের পরকীয়ার অভিযোগে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়। ভিডিওটিতে গৃহবধূ এবং পুরুষ দুজনকে কান্নাকাটি ও জীবনভিক্ষা চাইতে দেখা গেলেও নির্যাতনকারীরা তাতে কোনো করুণা দেখায়নি। বরং তাদের পায়ে চাপ দিয়ে চরম অপমান ও শারীরিক ক্ষতি করা হয়।
এখানেই শেষ নয়—নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অর্থ দিতে না পারায় তারা ঘরে থাকা প্রায় দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। দুই দিনের মধ্যে টাকা না দিলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং পরে ভিডিওটি বিভিন্নজনের কাছে পাঠিয়ে দেয়।
এত বড় ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বাঁচার আশায় তারা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। ভুক্তভোগী নারী জানান, “তারা আমাকে অসম্মান করার জন্যই এই কাজ করেছে। আগে থেকেই আমাদের জায়গার বিরোধ ছিল। এখন আমি নিজের এলাকায় নিরাপদ নই।”
স্থানীয়রা বলছেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অপকর্ম করে আসলেও প্রভাবের কারণে কেউ সাহস করে মুখ খুলত না। এই ঘটনার পর গ্রামবাসী একজোট হয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে।
এদিকে অভিযুক্তদের মোবাইলে বার বার কল করেও তাদের পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মিঠারকুল গ্রামের মানুষ মনে করছেন, এই ঘটনা শুধু একজন নারীর ওপর নয়, পুরো গ্রামের সম্মানের ওপর আঘাত। তাই আইনি প্রতিকার ও নিরাপত্তা এখন সবার প্রধান দাবি।