খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:২২ পিএম
জীবিকার তাগিদে মাত্র ১১ বছর বয়সে বিত্তবান পরিবারের গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো হয় শিশু ময়নাকে (ছদ্মনাম)। পরিবার আশা করেছিল, মেয়েটি সামান্য খাবার আর নিরাপদ পরিবেশে জীবন যাপন করবে। কিন্তু আশার আলো মুহূর্তেই মলিন হয়ে যায়। ময়নাকে পাঠানো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রভাবশালী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথী এর বাড়িতে দিনের পর দিন নৃশংস নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
পুলিশ জানায়, শিশু ময়নার শরীরে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা, ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত, এবং হাত-পায়ের হাড় ভাঙার মতো নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার গলা, হাত ও পায়ের বিভিন্ন জায়গায় কালচে দাগ এবং রক্তক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আসামিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জামিন আবেদন করে বলেন, শফিকুর একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং তিনি বা তার স্ত্রী এই ঘটনায় জড়িত নন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে এবং জানায়, ময়নার পরিবারের পেটের দায়ে তাকে কাজে দেওয়ার পর থেকে নিয়মিত নির্যাতন চালানো হয়েছে।
শিশুটির বাবা, গোলাম মোস্তফা, হোটেল কর্মচারী, মামলায় উল্লেখ করেন যে, গত বছরের জুনে ময়নাকে কাজের জন্য তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়। শর্ত ছিল, সমস্ত খরচ এবং ভবিষ্যতের দায়িত্ব গৃহকর্তৃপক্ষ নেবে। শেষবার মেয়েটিকে দেখা হয় ২ নভেম্বর। এরপর দীর্ঘ সময় মেয়েটির সঙ্গে দেখা না করার পর, ৩১ জানুয়ারি তার অসুস্থতার খবর পেয়ে ময়নাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ময়না হাসপাতালেই জানায়, ২ নভেম্বরের পর থেকে তার ওপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| শিশুর বয়স | ১১ বছর |
| পরিবার | হোটেল কর্মচারী বাবা (গোলাম মোস্তফা) |
| আসামি | শফিকুর রহমান (বিমানের এমডি) ও স্ত্রী বিথী |
| গ্রেফতার স্থান ও তারিখ | উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টর, রোববার রাত |
| নির্যাতনের ধরন | গরম খুন্তি, ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত, হাত-পায়ের হাড় ভাঙা |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| আদালতের সিদ্ধান্ত | জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানো |
শিশুটির ওপর চালানো নৃশংস নির্যাতন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ময়নার সঙ্গে সদিচ্ছা ও মানবিক দায়িত্ব পালন না করার ফলে ধনাঢ্য পরিবারের মধ্যে সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নও উত্থাপন হয়েছে। ঘটনা দেশের শিশু অধিকার রক্ষা ও গৃহকর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
মন্তব্য