খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যৌন অপরাধ ও কিশোরী পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে আন্তর্জাতিক কৌতূহল ও বিতর্ক কখনও কমেনি। ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল কারাগারে বিচার চলাকালীন তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে এপস্টেইনকে কিশোরী পাচার ও যৌন চক্র পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মার্কিন কংগ্রেস ‘এপস্টেইন ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ পাস করার পর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরে সংক্রান্ত গোপন নথিপত্র প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এপস্টেইনের জীবনের অন্ধকার দিকগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে।
নিউ ইয়র্কে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা এপস্টেইন সত্তরের দশকে একটি বেসরকারি স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষকতা করতেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ওয়াল স্ট্রিটের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ‘বেয়ার স্টার্নস’-এ যোগ দেন। মাত্র চার বছরের মধ্যে তিনি পার্টনার হয়েছিলেন এবং ১৯৮২ সালে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কোং’ প্রতিষ্ঠা করেন।
এপস্টেইনের সম্পদ ও বিনিয়োগের বিবরণ সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| ক্ষেত্র | বিবরণ |
|---|---|
| মোট সম্পদ | ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি |
| প্রধান আস্থাপত্র | জে এপস্টেইন অ্যান্ড কোং |
| প্রধান বসতি | নিউ ইয়র্ক, ফ্লোরিডা, নিউ মেক্সিকো |
| বিলাসবহুল প্রাসাদ/দ্বীপ | ব্যক্তিগত দ্বীপসহ বিভিন্ন প্রাসাদ |
| প্রভাবশালী বন্ধু | বিল ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রিন্স অ্যান্ড্রু |
সামাজিকভাবে এপস্টেইনের যোগাযোগ ছিল বিস্ময়কর। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু পর্যন্ত তার বন্ধু তালিকায় ছিলেন। ২০০২ সালে ট্রাম্প তাকে ‘চমৎকার লোক’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প দাবি করেন যে কয়েক দশক আগে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। প্রিন্স অ্যান্ড্রু ২০২৫ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে রাজকীয় উপাধি হারান।
২০০৫ সালে প্রথমবার ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। ২০০৮ সালে তিনি একটি বিতর্কিত ‘প্লি ডিল’ বা সমঝোতার মাধ্যমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এড়িয়ে মাত্র ১৩ মাস কারাগারে থাকেন এবং দিনের ১২ ঘণ্টা অফিসে কাজের অনুমতি পান। পরবর্তীতে এই সমঝোতাকে ‘শতাব্দীর সেরা ডিল’ হিসেবে সমালোচনা করা হয়। ২০১৯ সালে পুনরায় কিশোরী পাচারের অভিযোগ ওঠার পর তিনি গ্রেফতার হন, এবং জেলের ভেতরেই তার জীবন শেষ হয়।
এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিজলেন ম্যাক্সওয়েলকে বিচারকের সামনে দাঁড়াতে হয়। ২০২১ সালে কিশোরী পাচার ও প্ররোচনার অভিযোগে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। আদালতে ম্যাক্সওয়েল স্বীকার করেন যে এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুশোচনার বিষয়।
বর্তমানে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিপত্রগুলো প্রকাশ করছে। এসব নথি তার অপরাধের পরিসর, ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক স্তরে প্রভাব সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচন করছে।