খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
আগামী ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক সিটির ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক নজিরবিহীন উৎসবের ঘোষণা দিয়েছে শহর প্রশাসন। বিশ্বকাপের মূল আসরের ম্যাচের টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য এবং যাতায়াত খরচের কারণে সাধারণ সমর্থকদের একটি বড় অংশ স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে শহরজুড়ে বিনামূল্যে ‘ফ্যান ফেস্ট’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল, ২০২৬) নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের রূপরেখা প্রকাশ করেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হচুল যৌথভাবে এই ঘোষণা প্রদান করেন। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো বা প্রশাসনিক এলাকাতেই (ম্যানহাটন, কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ড) বিশাল পরিসরে ফ্যান ফেস্টের আয়োজন করা হবে। এর ফলে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হতে না পারা হাজার হাজার ফুটবল সমর্থক নিজ এলাকার কাছাকাছি থেকেই বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারবেন।
নির্ধারিত ভেন্যুগুলোর তালিকা নিম্নরূপ:
ম্যানহাটন: বিশ্বখ্যাত রকফেলার সেন্টার।
কুইন্স: বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টার।
ব্রুকলিন: ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কের মনোরম চত্বর।
ব্রঙ্কস: ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম সংলগ্ন একটি শপিং সেন্টার।
স্ট্যাটেন আইল্যান্ড: একটি স্থানীয় মাইনর লিগ বেসবল স্টেডিয়াম।
আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, প্রতিটি ফ্যান ফেস্ট ভেন্যুতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বড় পর্দা (জায়ান্ট স্ক্রিন) স্থাপন করা হবে, যেখানে সরাসরি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সম্প্রচার করা হবে। খেলা দেখার পাশাপাশি দর্শকদের বিনোদনের জন্য থাকবে বৈচিত্র্যময় আয়োজন। প্রতিটি ভেন্যুতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সংগীত পরিবেশনার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া আগত দর্শকদের জন্য বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল, শিশুদের জন্য গেম জোন এবং স্পন্সরদের পক্ষ থেকে নানা উপহার সামগ্রীর ব্যবস্থা রাখা হবে। মূল লক্ষ্য হলো, বিশ্বকাপের আমেজ কেবল স্টেডিয়ামের চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো শহরজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পরিসংখ্যান এবং বর্তমান বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, শুধুমাত্র গণপরিবহনে করে স্টেডিয়ামে যাতায়াত করতেই একজন সমর্থকের প্রায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এর সাথে টিকিটের চড়া মূল্য যোগ করলে সাধারণ সমর্থকদের জন্য এটি একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।
মেয়র জোহরান মামদানি, যিনি নিজেও একজন ফুটবল অনুরাগী হিসেবে পরিচিত, এই ব্যয়বহুল বাস্তবতাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট উপভোগ করার জন্য কোনো সাধারণ মানুষকে যেন তার কষ্টার্জিত সঞ্চয় খরচ করতে না হয়, সেটিই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যেই নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি ভেন্যুতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির বিনামূল্যের আয়োজনের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নিউ জার্সির হ্যারিসনে অবস্থিত স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড স্টেডিয়ামে (যা নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত) আরও একটি বিশেষ ফ্যান ইভেন্টের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিউইয়র্কের আয়োজনগুলোর তুলনায় এখানে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। এই ভেন্যুতে প্রবেশ করার জন্য দর্শকদের ১০ ডলার মূল্যের টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। এটি মূলত একটি নিয়ন্ত্রিত এবং প্রিমিয়াম ফ্যান ইভেন্ট হিসেবে পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্ক সিটির এই বিশাল উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্বকাপ আয়োজক শহরগুলোর জন্যও একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি এবং ডালাসের মতো শহরগুলোতেও অনুরূপ বিনামূল্যের ফ্যান ফেস্ট আয়োজনের আলোচনা চলছে। ফিফা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত এই বিশ্বকাপকে ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় এবং জনবান্ধব আসর হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই ফ্যান ফেস্টগুলোর মাধ্যমে বিশ্বকাপের সময় নিউইয়র্ক শহর এক আনন্দনগরে পরিণত হবে। স্টেডিয়ামে যাওয়ার সামর্থ্য থাকুক বা না থাকুক, প্রতিটি ফুটবল সমর্থক যেন এই বৈশ্বিক উৎসবের অংশীদার হতে পারেন, নিউইয়র্ক প্রশাসনের এই উদ্যোগ সেই নিশ্চয়তা প্রদান করছে।