খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে মাঘ ১৪৩২ | ২৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র ও তিনটি হাতবোমাসহ ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানটি শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে টঙ্গীর এরশাদ নগর বস্তি ও হাজী মাজার বস্তিতে পরিচালিত হয়।
অভিযান শেষে শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, “এই অভিযান বিশেষভাবে পরিকল্পিত ছিল, যাতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এলাকায় বিশৃঙ্খলা রোধ করা যায়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র ও তিনটি হাতবোমা জব্দ করা হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, অভিযান থেকে পাওয়া জব্দকৃত সামগ্রী ও গ্রেফতার ব্যক্তির সংখ্যা নিম্নরূপ:
| ধারাবাহিক সংখ্যা | জব্দকৃত সামগ্রী | পরিমাণ/সংখ্যা |
|---|---|---|
| ১ | হেরোইন | ৫০০ গ্রাম |
| ২ | ইয়াবা | ৩৪৭টি |
| ৩ | দেশীয় অস্ত্র | ২টি |
| ৪ | হাতবোমা | ৩টি |
| ৫ | গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি | ৩৫ জন |
অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল টঙ্গীর বিভিন্ন বস্তি এলাকায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের চলাচল রোধ করা। অভিযানে দুইটি পৃথক দল অংশ নিয়েছিল এবং সঠিক কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “গ্রেফতারকৃতদের পরে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা হস্তান্তর করা হয়েছে। দুপুরে মামলা নথিভুক্তির পর তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং নির্বাচনী সময়ে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করা।”
স্থানীয়রা জানান, এরশাদ নগর ও হাজী মাজার বস্তি দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও অস্ত্রসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত ছিল। এই অভিযানের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে।
অভিযানটি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও Rapid Action Battalion (RAB)-এর যৌথ উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অভিযান স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া, অভিযান চলাকালীন গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হবে। অভিযানকারীরা আশা করছেন, এই ধরনের কার্যক্রম এলাকার অপরাধপ্রবণতা হ্রাসে সহায়ক হবে এবং সাধারণ জনগণকে নিরাপদ জীবনযাপনের সুযোগ করে দেবে।