খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় বহুল আলোচিত সাহাবুল ইসলাম মন্ডল হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবির সরকার এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানার বিষয়েও নির্দেশনা দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত চারজন হলেন—আসাদুল প্রামানিক ওরফে কালু, আবু তাহের, হাবিল হোসেন এবং মো. মিলন। এদের মধ্যে রায় ঘোষণার সময় আবু তাহের ছাড়া বাকি তিনজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, স্থানীয় গ্রাম্য বিরোধ ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্য থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে সাহাবুল ইসলাম মন্ডলকে ডেকে নিয়ে যান মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুর এলাকার বুরাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে অবস্থিত একটি ধৈঞ্চা ক্ষেতে। সেখানে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে প্রত্যেক আসামির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী মিরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পান থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) এস এম জাবীদ হাসান। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে আসাদুল প্রামানিক ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং অপর তিন সহযোগীর নাম প্রকাশ করেন। এরপর পুলিশ ধারাবাহিকভাবে বাকি আসামিদের শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ শেষে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বিচার চলাকালে আদালতে মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ, জব্দ তালিকা, ডাক্তারি প্রতিবেদন এবং আসামিদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে আদালত নিশ্চিত হন যে, অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফলে চার আসামির বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় প্রদান করা হয়।
নিম্নে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার তারিখ | ২১ অক্টোবর ২০১৯ |
| ঘটনার স্থান | নওদা আজমপুর, মিরপুর, কুষ্টিয়া |
| নিহত ব্যক্তি | সাহাবুল ইসলাম মন্ডল |
| দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি | ৪ জন |
| সাক্ষীর সংখ্যা | ১৭ জন |
| রায় ঘোষণার তারিখ | ২৯ মার্চ ২০২৬ |
আইনজীবীরা মনে করছেন, এ ধরনের রায় গ্রামাঞ্চলে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রতিহিংসামূলক অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। একই সঙ্গে এটি বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।