খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৭ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মাদক চক্রের সহিংসতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে মেক্সিকো এবার ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসাবে দারুণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশটি নিশ্চিত করেছে যে, দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা প্রদানে প্রায় এক লাখ নিরাপত্তা কর্মী মাঠে থাকবে। এই উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে ‘প্ল্যান কুকুলকান’ নামে ডাকা হয়েছে, যা প্রাচীন মায়া সভ্যতার সর্পদেবতার নামানুসারে রাখা হয়েছে।
মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে সহযোগিতায় আয়োজনকৃত এই বিশ্বকাপের তিনটি শহরে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে: গুয়াদালাহারা, মন্তেরে, এবং মেক্সিকো সিটি। গুয়াদালাহারায় গত মাসে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে এবং প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তবে মন্তেরে ও মেক্সিকো সিটিতে এমন প্রভাব তেমন নেই। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১১ জুন এবং শেষ হবে ১৯ জুলাই।
মেক্সিকোর সবচেয়ে শক্তিশালী অপরাধী সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)। তাদের নেতা নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস, যিনি ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত, সম্প্রতি সেনা অভিযানে নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও তাঁকে ধরার জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। এল মেনচোর মৃত্যুর পর থেকে সিজেএনজি মেক্সিকান সেনাবাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলিতে জড়িত হচ্ছে।
মেক্সিকোর সরকার নিরাপত্তা পরিকল্পনায় তিনটি আয়োজক শহরের পাশাপাশি পর্যটন এলাকায়ও তৎপরতা বৃদ্ধি করছে। দেশের বিশ্বকাপ সমন্বয়কেন্দ্রের প্রধান রোমান ভিল্লালভাজো জানিয়েছেন, পরিকল্পনার আওতায় মোট ৯৯ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে:
| নিরাপত্তা বাহিনী | সংখ্যা | বিবরণ |
|---|---|---|
| সেনাসদস্য | ২০,০০০ | মাঠ, বিমান ও যান চলাচলে নিয়োজিত |
| পুলিশ | ৫৫,০০০ | স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে |
| বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী | ২৪,০০০ | ভেন্যু ও পর্যটন এলাকায় সহায়তা |
| সামরিক ও বেসামরিক যান | ২,৫০০ | মোবাইল প্রতিরক্ষা ইউনিট |
| বিমান ও ড্রোন | ২৪ | নজরদারি ও তদারকির জন্য |
| প্রশিক্ষিত কুকুর | – | বিস্ফোরক ও বিপজ্জনক বস্তু শনাক্তে |
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ, ড্রোন বিরোধী ব্যবস্থা ও ত্রুটিমুক্ত নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটি-এ, যেখানে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত আশ্বস্ত যে মেক্সিকো নিরাপদ ও সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে সক্ষম হবে।
এই বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে মেক্সিকো চেষ্টা করছে বিশ্বের কোটি দর্শককে নিরাপদে খেলা উপভোগ করার সুযোগ দিতে এবং সহিংসতার প্রভাব কমিয়ে বিশ্বকাপের মর্যাদা বজায় রাখতে।
এই প্রতিবেদনে মেক্সিকোর প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা কৌশল আন্তর্জাতিক পর্যটক ও ফুটবল প্রেমীদের জন্য একটি শক্তিশালী আস্থা তৈরি করেছে।