বিশ্বজুড়ে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার ঢেউ বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত এই বিশ্ব আসরের নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ফুটবলের আবেগকে কেন্দ্র করে নতুন একটি গান প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় সুরকার ও সংগীত প্রযোজক ফুয়াদ আলমুক্তাদির।
“কান্দারি চলো” শিরোনামের এই গানটি ফুটবলকে কেবল একটি খেলা হিসেবে নয়, বরং জীবন, সংস্কৃতি ও আবেগের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। গানটির মাধ্যমে ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের গভীর ভালোবাসা ও সামাজিক সংযোগকে প্রকাশ করা হয়েছে।
এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় শিল্পী মিলা, পান্তো কানাই, ব্যামি, সানজানা এবং র্যাপার ব্ল্যাক জ্যাং। পাশাপাশি নাইজেরীয় সংগীতশিল্পী ওলি বয়ের অংশগ্রহণ গানটিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। সংগীতের বিন্যাসে ব্রাজিলের জনপ্রিয় বাইলি ফাঙ্ক ধাঁচের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়, যা ফুটবলের বৈশ্বিক আবেদনকে আরও জোরালো করেছে।
গানের কথাগুলো লিখেছেন টাইগার চৌধুরী, মাহবুব মুর্শেদ (শিহাব), ওলি বয় এবং ব্ল্যাক জ্যাং। সংগীতের সামগ্রিক নির্মাণে বাংলাদেশি লোকসংগীতের উপাদান, স্টেডিয়ামের স্লোগানধর্মী আবহ, ইলেকট্রনিক সাউন্ড এবং নগর জীবনের দৈনন্দিন শব্দকে একত্রিত করা হয়েছে।
গানটির ভিডিওচিত্র নির্মাণ করেছেন মিরাজ হোসেন এবং প্রযোজনা করেছে রানআউট ফিল্মস।
গানের মূল বার্তা খুবই সরল—ফুটবলই জীবন। এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফুটবলকে ঘিরে গড়ে ওঠা সামাজিক আবেগ, বন্ধুত্ব, প্রতিযোগিতা এবং আনন্দের বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরে।
বাংলাদেশে ফুটবল শুধু মাঠের খেলা নয়। এটি পাড়ার অলিগলি, ছাদে জমে ওঠা আড্ডা, চায়ের দোকানের তর্কবিতর্ক এবং বিভিন্ন দেশের পতাকায় সজ্জিত রাস্তায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। এই গান সেই সামগ্রিক আবেগকেই ধারণ করার চেষ্টা করেছে।
ফুয়াদ আলমুক্তাদির জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের লক্ষ্য ফুটবলের মাধ্যমে একটি বৃহত্তর গল্প বলা—যেখানে স্বপ্ন, বন্ধুত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আবেগ একসাথে মিশে আছে।
নিচে গানটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের উত্তেজনার সঙ্গে মিল রেখে প্রকাশিত এই গানটি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এটি কেবল একটি সংগীতকর্ম নয়, বরং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার একটি সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে একই আবেগকে একসূত্রে বাঁধে।