জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মনির খানের মা মনোয়ারা খাতুন হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করার পর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাকে নিয়ে যান। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে যশোর শহরের একটি বৃহৎ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়।
ঘটনাটি ঘটে ২০ জুন সন্ধ্যার দিকে। মনির খান জানান, হঠাৎ করেই তার মায়ের বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, যা দেখে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা উন্নত পর্যবেক্ষণের জন্য যশোরে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের প্রাথমিক আশঙ্কা ছিল এটি হৃদ্যন্ত্রজনিত জটিলতা হতে পারে। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে এটি হৃদ্রোগ বা হার্ট অ্যাটাক নয়। বরং শরীরের ভেতরে সংক্রমণজনিত সমস্যার কারণে এমন ব্যথা দেখা দিতে পারে বলে মত দেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে তার রক্তচাপও হঠাৎ করে অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
মনির খান বলেন, প্রথমে তার ধারণা হয়েছিল মায়ের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসকরা বোর্ড বসিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন এবং নিশ্চিত হন যে এটি হৃদ্যন্ত্রজনিত আক্রমণ নয়। চিকিৎসকদের মতে, অভ্যন্তরীণ সংক্রমণের কারণে এই ধরনের ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে মনোয়ারা খাতুনের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মনির খান। তিনি জানান, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পরবর্তীতে তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকরা তার অবস্থা স্থিতিশীল মনে করলে শিগগিরই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কালবেলাকে দেওয়া বক্তব্যে মনির খান আরও বলেন, পরিবারের সবাই এখন অনেকটাই স্বস্তিতে আছেন। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সময়মতো চিকিৎসার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
নিচে ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা উপস্থাপন করা হলো—
| সময়/পর্যায় |
ঘটনা বিবরণ |
| ২০ জুন সন্ধ্যা |
হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা শুরু |
| প্রাথমিক পর্যায় |
স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা |
| স্থানান্তর |
যশোরের বৃহৎ হাসপাতালে পাঠানো |
| নিবিড় পরিচর্যা |
অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি |
| পরীক্ষা-নিরীক্ষা |
হৃদ্রোগ নয়, সংক্রমণজনিত সমস্যা শনাক্ত |
| বর্তমান অবস্থা |
উন্নতি হয়েছে, সাধারণ ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন |
চিকিৎসকদের মতে, সংক্রমণজনিত শারীরিক জটিলতা অনেক সময় হঠাৎ করেই তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে। সময়মতো চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণই এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মনোয়ারা খাতুন বর্তমানে বিশ্রামে আছেন এবং চিকিৎসা দলের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।