চলতি বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে মাঠে নেমে এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন স্পেনের তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল। ম্যাচের শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই তিনি নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল উদযাপন করেন। খেলার মাত্র ১০ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে লক্ষ্যভেদ করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই তরুণ তারকা। কেপ ভার্দের বিপক্ষে পূর্ববর্তী ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামলেও, সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচটিতেই তিনি প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে (স্টার্টিং লাইন-আপ) জায়গা পান এবং প্রথম ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখান।
এই গোলের মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে কিংবদন্তি পেলের দীর্ঘ ৬৮ বছর পুরোনো একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করেছেন ১৮ বছর বয়সি ইয়ামাল। ফুটবল ইতিহাসে ১৮ বছর বা তার কম বয়সে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে প্রথম গোল করার গৌরবময় রেকর্ডটি এত দিন এককভাবে ছিল ব্রাজিলের ফুটবল সম্রাট পেলের দখলে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করে পেলে এই রেকর্ডটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় সাত দশক পর স্পেনের এই তরুণ ফুটবলার সেই রেকর্ডে নিজের নাম যুক্ত করলেন।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে কম বয়সে গোল করার ক্ষেত্রে এই দুই তারকার পরিসংখ্যানগত তুলনা নিচে দেওয়া হলো:
কম বয়সে বিশ্বকাপ গোল: পেলে ও ইয়ামালের রেকর্ড
| ফুটবলারের নাম | দেশের নাম | প্রতিপক্ষ দল | অর্জিত বয়স | বিশ্বকাপের সাল | রেকর্ডের সময়কাল |
| পেলে | ব্রাজিল | ওয়েলস | ১৭ বছর | ১৯৫৮ | ১৯৫৮ থেকে একক রেকর্ড |
| লামিন ইয়ামাল | স্পেন | সৌদি আরব | ১৮ বছর | ২০২৬ | ২০২৬ সালে রেকর্ড স্পর্শ |
নকআউট পর্বের সমীকরণ ও গ্রুপ টেবিলের নিয়মাবলী
লামিন ইয়ামালের এই চমৎকার পারফরম্যান্সের দিনে স্পেনের নকআউট পর্বের সমীকরণও বেশ আলোচনায় রয়েছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, স্পেন যদি তাদের গ্রুপে (গ্রুপ এইচ) শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারে এবং অপর গ্রুপে (গ্রুপ জে) আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়, তবে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে আর্জেন্টিনা যদি তাদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে, সে ক্ষেত্রে তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় সেরা দল। বর্তমানে গ্রুপ ‘এইচ’-এর পয়েন্ট তালিকায় স্পেন ২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। সমান ২ পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে উরুগুয়ে এবং কেপ ভার্দে।
এবারের বিশ্বকাপে পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান নির্ধারণে অলিম্পিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। যদি গ্রুপ পর্বে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়, তবে অবস্থান নির্ধারণে পর্যায়ক্রমে নিচের টাইব্রেকিং নিয়মগুলো প্রযোজ্য হবে:
-
হেড-টু-হেড পয়েন্ট: সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে অর্জিত পয়েন্ট।
-
হেড-টু-হেড গোল ব্যবধান: নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে গোল ব্যবধান।
-
হেড-টু-হেড গোলসংখ্যা: নিজেদের মধ্যকার ম্যাচে দেওয়া মোট গোলসংখ্যা।
-
সামগ্রিক গোল ব্যবধান: গ্রুপের সব কটি ম্যাচ মিলিয়ে মোট গোল ব্যবধান।
-
গ্রুপে মোট গোলসংখ্যা: পুরো গ্রুপ পর্বে দলটির দেওয়া মোট গোল।
-
ডিসিপ্লিনারি পয়েন্ট: কম লাল কার্ড এবং কম হলুদ কার্ড পাওয়া দল এগিয়ে থাকবে।
-
ফিফা র্যাঙ্কিং: ওপরের সব নিয়ম সমান হলে সর্বশেষ বিবেচ্য বিষয় হবে দলের অফিশিয়াল ফিফা র্যাঙ্কিং।
সৌদি আরবের বিপক্ষে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে ১০ মিনিটে গোল করার এই পারফরম্যান্স লামিন ইয়ামালকে চলতি বিশ্বকাপে নতুন করে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।



