খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
সরকার দেশে ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও বিনিয়োগবান্ধব করতে নানা ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে অতীতে একটি ব্যবসা শুরু করতে প্রায় এক বছর পর্যন্ত সময় লাগত। কিন্তু নতুন পরিকল্পনার আওতায় এই সময় কমিয়ে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদর্শ পরিস্থিতিতে কোম্পানি গঠনের ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার সুযোগ তৈরি করা হবে।
রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত “সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কর্মসংস্থান এজেন্ডা সমন্বয়” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সহযোগিতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা বিষয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু সময় বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সময়, যা ব্যবহার করে দেশকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদন বৈচিত্র্য আনা এবং উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বাজেটে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির যে ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, তা কেবল আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; বরং সরকারের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি। ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং জটিলতা কমানো এবং বাজার সম্প্রসারণে বৈচিত্র্য আনা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা এখন শুধু লাভ নয়, বরং স্বচ্ছতা, টেকসই উন্নয়ন, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এখন নতুন মানদণ্ডে পুনর্গঠিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এসব পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে “দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ সেল” গঠন করা হয়েছে। এই সেল সরকারি দপ্তর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিতে কাজ করবে।
সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো। এজন্য নীতিগত সংস্কার অব্যাহত থাকবে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও প্রতিযোগিতামূলক করা হবে।
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা | লক্ষ্য/পরিবর্তন |
|---|---|---|
| ব্যবসা শুরু করার সময় | প্রায় ১ বছর পর্যন্ত সময় লাগে | ১৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা |
| কোম্পানি নিবন্ধন ও কার্যক্রম শুরু | দীর্ঘ প্রশাসনিক ধাপ | দ্রুত ও সমন্বিত প্রক্রিয়া |
| ঋণপত্র খোলা | অনুমোদনে বিলম্ব হয় | ১৫তম দিনের মধ্যেই সম্ভব |
| নীতি সংস্কার | বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত | সমন্বিত ও একীভূত ব্যবস্থা |
| দায়িত্বশীল ব্যবসা কাঠামো | সীমিত সমন্বয় | নতুন সমন্বয় সেল গঠন |
আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় অঞ্চলের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একজন নির্বাহী সদস্য, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁরা সবাই বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় দেশের অবস্থান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সর্বশেষে মন্ত্রী জানান, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য একটি পৃথক কমিটি কাজ করছে এবং কোন কোন ধাপে সময় কমানো সম্ভব, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী মাসে এসব সংস্কার কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে।