খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও গত ৬০ বছরে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি ইংল্যান্ড দল। সর্বশেষ ১৯৬৬ সালে নিজেদের ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রিটিশরা। দীর্ঘ ছয় দশকের এই শিরোপা খরা কাটাতে এবার মরিয়া হ্যারি কেনের দল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আসরের মূল খেলা মাঠে গড়ানোর আগেই শিরোপা জয়ের পর দেশজুড়ে চ্যাম্পিয়নশিপ প্যারেড বা বিজয় র্যালির আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পন্ন করে রেখেছে ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাদের এমন আগাম প্রস্তুতি ফুটবল মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলতে পারলে দেশজুড়ে জাঁকজমকপূর্ণ উল্লাস এবং ট্রফি প্রদর্শনের জন্য ইতোমধ্যে বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। জানা গেছে, এই সম্ভাব্য বিজয় র্যালির প্রাথমিক খসড়া ও রূপরেখা তৈরির পেছনেই বড় অঙ্কের ব্যয় ধরা হয়েছে।
বাজেট বরাদ্দ: বিশ্বকাপ জয়ের পর বিজয় মিছিলের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা বাবদ মোট ৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা (ব্রিটিশ পাউন্ডের সমমূল্য) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা: এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে দেশটির সরকারের ক্রীড়া দফতর (Department for Culture, Media and Sport)। সরকারের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’ (এফএ)-ও এই পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে।
কর্মকর্তা নিয়োগ: ট্রফি জয়ের পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য সরকারি কর্মচারীদেরও আগাম নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে নিযুক্ত করে রাখা হয়েছে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুলাই। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইংল্যান্ড যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে ফাইনালের ঠিক পরপরই রাজধানী লন্ডন জুড়ে একটি বিশাল ট্রফি ট্যুর বা মিছিলের আয়োজন করা হবে। এই মিছিলে ফুটবলারদের সাধারণ মানুষের সামনে প্রদর্শনের জন্য একটি ছাদখোলা দোতলা (ডাবল-ডেকার) বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেটিতে চেপে খেলোয়াড়রা পুরো লন্ডন শহর প্রদক্ষিণ করবেন।
ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও সরকার মূলত পূর্বের একটি সফল অভিজ্ঞতার আলোকেই এই বড় পরিসরের আগাম পরিকল্পনাটি সাজিয়েছে।
২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের নারী ফুটবল দল (লায়নেসেস) উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জয় করার পর লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে একটি ঐতিহাসিক বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সময়ে লন্ডনের রাস্তায় প্রায় ৬৫ হাজার ফুটবল সমর্থক সমবেত হয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, পুরুষ দল যদি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারে, তবে রাস্তায় সাধারণ মানুষের ভিড় ও উন্মাদনা নারী দলের ইউরো জয়ের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। মূলত সেই বিশাল জনসমাগম এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদেই এত আগেভাগে এই বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
১৯৬৬ সালের পর থেকে পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কোনো শিরোপা নেই। দীর্ঘদিনের এই ব্যর্থতার খতিয়ানের কারণে এই আগাম পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনাও করেছেন অনেকে। সমালোচকদের মতে, যেখানে টুর্নামেন্ট এখনও শুরুই হয়নি এবং ইংল্যান্ডের মাঠের পারফরম্যান্স কেমন হবে তা অনিশ্চিত, সেখানে ট্রফি জয়ের উৎসবের পরিকল্পনা করা অবান্তর। যদি দল নকআউট পর্ব বা ফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে এই বিপুল অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যাবে, যা বৈশ্বিক মঞ্চে ইংল্যান্ডের জন্য চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।
নিচে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ রেকর্ড এবং বর্তমান অগ্রিম পরিকল্পনার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও পরিসংখ্যান |
| সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয় | ১৯৬৬ সাল (স্বাগতিক হিসেবে) |
| গত ৬০ বছরের রেকর্ড | ফাইনাল বা শিরোপা জয়হীন |
| ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল তারিখ | ১৯ জুলাই, ২০২৬ |
| বিজয় র্যালির জন্য বরাদ্দ বাজেট | ৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা |
| মূল পরিকল্পনাকারী | সরকারি ক্রীড়া দফতর এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FA) |
| পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা (২০২৫ নারী ইউরো) | লন্ডনের রাস্তায় ৬৫,০০০ সমর্থকের উপস্থিতি |
| পরিকল্পিত যানবাহন | বিশেষ ছাদখোলা দোতলা (ডাবল-ডেকার) বাস |
সব মিলিয়ে, মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এই রাজকীয় প্রস্তুতি হ্যারি কেনদের ওপর যেমন মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে, তেমনি ফুটবল ভক্তদের মাঝেও তৈরি করেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।