আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সম্পদের অধিকারী হলেন মার্কিন কোটিপতি ইলন মাস্ক। তবে গত বুধবার তাঁর সম্পদের পরিমাণ একটি নতুন শিখর স্পর্শ করে। কিছু সময়ের জন্য মাস্কের মোট সম্পদ ৫০০ বিলিয়ন বা হাফ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল।
এক বিলিয়ন বলতে ১ হাজার মিলিয়ন বা একশ কোটিকে বোঝায়, আর এক ট্রিলিয়ন বলতে ১ হাজার বিলিয়ন বা এক লক্ষ কোটিকে বোঝায়। ফোর্বস সাময়িকী জানিয়েছে, একক ব্যক্তির সম্পদ অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার স্পর্শ করার ঘটনাটি বিশ্ব ইতিহাসে এটিই প্রথম।
ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ারস ট্র্যাকারের সূত্র ধরে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে—বুধবার টেসলা এবং স্পেসএক্স-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাস্কের সম্পদ সামান্য সময়ের জন্য ৫০০.১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও পরে তা সামান্য কমে ৪৯৯.১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় থাকা অন্যান্য ব্যক্তিত্বদের তুলনায় ৫৪ বছর বয়সী মাস্কের মোট সম্পদ অনেক বেশি পরিমাণে এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওরাকলের সিইও ল্যারি এলিসনের সম্পদ হলো ৩৫০.৭ বিলিয়ন ডলার। ২৪৫.৮ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন মেটার (ফেসবুকের মূল সংস্থা) প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ।
এএফপি জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে মাস্ক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সেই সময় তাঁর ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারে সামান্য পতন ঘটে। তবে রাজনীতি থেকে সরে আসার পর তিনি সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছেন। তাঁর অন্যান্য সংস্থাগুলোর আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন।
মাস্ক প্রথম মিলিয়নিয়ারে পরিণত হন ১৯৯৯ সালে। সে সময় তিনি তাঁর একটি প্রকাশনা সফটওয়্যার মার্কিন কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কম্প্যাকের কাছে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন। পরবর্তীকালে, তাঁর অন্য একটি সংস্থা আর্থিক লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম পেপালের সাথে একীভূত হয়। তবে মাস্ক কিছুদিন পর সেই উদ্যোগ থেকেও বেরিয়ে আসেন। ২০০২ সালে তিনি মহাকাশ রকেট সংস্থা ‘স্পেসএক্স’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০৪ সালে টেসলার চেয়ারম্যান হন।
খবরওয়ালা/টিএসএন