খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সরকার ও প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে ২১ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। ক্যাটাগরি–৩ থেকে পরাজিত এক প্রার্থী বলেন, ‘নির্বাচনে যা ঘটেছে, তা ফিক্সিংয়ের চেয়েও গভীর।’
আজ ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা, সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ও দলের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক সরাসরি অভিযোগ করেন, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘ক্রীড়া উপদেষ্টার আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। অনেক কাউন্সিলর আমাকে জানিয়েছেন, তাঁদের ডেকে নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং ভোট দিতে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিসিবি পুরো দেশের, এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ক্রীড়া উপদেষ্টা কার্যত এটিকে নিজের প্রতিষ্ঠান বানিয়ে ফেলেছেন। তিনি এমনকি বলেছেন, যেকোনো মূল্যে বুলবুল ভাইকে সভাপতি করবেন। এটি স্বেচ্ছাচারিতা, এবং বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটপ্রেমী এটি মেনে নেবে না।’
আমিনুলের অভিযোগ, ক্লাব ক্যাটাগরিতে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তিনি বলেন, ‘দুটি ক্লাব নিয়ে সমস্যা ছিল, যা গণমাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছে। সেই চারটি ক্লাবের প্রতিনিধি এখন বোর্ড পরিচালক। এসব ক্লাবের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তাদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য চিঠি পাঠানো থেকে শুরু করে পরবর্তী ধাপ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এর ফলে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
বিসিবি সভাপতি বুলবুলের চিঠি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকেও দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন আমিনুল। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হয়ে গেলেও হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের রায়ের পর যদি সেই চিঠি অবৈধ ঘোষণা করা হয়, তাহলে নির্বাচিত সদস্যদের থাকা সত্ত্বেও পুরো নির্বাচন বাতিল হয়ে যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৫টি ক্লাবকে ইচ্ছামতো বাতিল ও পুনর্বহাল করা, একজন এমপি প্রার্থীর মনোনয়ন—সবকিছুই একক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। আমার কাছে এমন তথ্যও আছে যে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কিছু পরিচালক নির্বাচিত হতে পারেন। এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।’
আমিনুলের মতে, ‘এই প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন কোনো প্রকৃত ক্রিকেটপ্রেমী বা ক্রীড়া সংগঠক সহজভাবে মেনে নেবে না।’
খবরওয়ালা/এন