খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সর্বজন শ্রদ্ধেয় আকবর আলি খান ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, লেখক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা।
শিক্ষাজীবন
১৯৪৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের এক শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে পরবর্তীতে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আকবর আলি খানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সাহসী ও অনন্য। হবিগঞ্জের এসডিও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পুলিশের অস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিয়ে প্রতিরোধ সংগঠিত করেন। মুজিবনগর সরকার প্রতিষ্ঠার আগেই তিনি নিজ হাতে লিখিত আদেশ তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ, খাদ্য ও অস্ত্রের ব্যবস্থা করেন।
তিনি ব্যাংকের ভল্ট থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা সংগ্রহ করে ট্রাকে করে আগরতলায় পৌঁছে দেন, যা স্বাধীনতার তহবিল গঠনে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখে। মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য সরবরাহের জন্য গুদামঘর খুলে দেন এবং পরে আগরতলায় গিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসন গঠনের প্রচেষ্টা চালান। এর লক্ষ্য ছিল মুক্তিযোদ্ধা ও উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রিত শরণার্থীদের সহায়তা করা।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের অপরাধে পাকিস্তানি সামরিক আদালত তাঁকে অনুপস্থিতিতে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।
স্বাধীন বাংলাদেশে দায়িত্বপালন
স্বাধীনতার পর আকবর আলি খান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সভাপতি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা নিযুক্ত হলেও নীতিগত কারণে পদত্যাগ করেন।
অবসরে গিয়ে তিনি শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত হন এবং হয়ে ওঠেন পূর্ণকালীন লেখক। অর্থনীতি, ইতিহাস, সমাজবিদ্যা ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর গবেষণামূলক বই ব্যাপক সমাদৃত হয়। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘পুরানো সেই দিনের কথা’ পাঠকের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়।
শ্রদ্ধার্পণ
রক্তাক্ত একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জোগানো এবং মুজিবনগর সরকার গঠনে অবিস্মরণীয় অবদান রাখা দেশপ্রেমিক আকবর আলি খানকে বাঙালি জাতি চিরকাল স্মরণ করবে।
৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে তিনি পরলোকগমন করেন। তাঁর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
খবরওয়ালা/এমএজেড